প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একনজর দেখার আশায় সত্যপীর ব্রিজ মোড়ে দাঁড়িয়েছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব শামসুল আলম। তিনি সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা। শহরে কাজে এসে ওই পথে প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন জেনে সবার সঙ্গে তিনিও দাঁড়িয়েছিলেন।
একই স্থানে প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে দাঁড়িয়েছিলেন নারগুন এলাকার মোহাম্মদ এয়াকুব। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সালন্দর এলাকার আবু মুসা।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মুসা বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ সড়ক দিয়ে ১৭ বছর পর যাওয়ার কথা শুনে নেত্রীকে দেখার জন্য দাঁড়ালাম।
এ সময় মুসা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি কখনও। কিন্তু তার কন্যা শেখ হাসিনাকে অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল সরাসরি দেখার। অবশেষে ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের অবহেলিত ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের কিছু প্রত্যাশা আজ পূরণ করে তাহলে এই জেলার মানুষ অনেক এগিয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিজিবি ক্যাম্প থেকে সার্কিট হাউজের পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একনজর দেখতে সড়কের দুই পাশে হাজারো মানুষের ভিড় জমে যায়।
প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার জন্য ওই সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নেন। মানুষের ভিড় সামলাতে পুলিশকেও হিমশিম খেতে হয়।
এছাড়া দলীয় সভানেত্রীকে স্বাগত জানাতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলের সব অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সড়কের দুই পাশে তাকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ রাখা হয় সড়কের পাশের সব দোকান-পাট। যানবাহন চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় সাময়িক দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। তবে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন জেনে পথচারীদের অনেকে খুশিমনে সেই দুর্ভোগ মেনে নেন।
এ প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও শহরের আবুল হোসেন নামে এক বৃদ্ধ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টিকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাছাড়া তিনি তো আসছেন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের স্বপ্নপূরণের কথা জানান দিতে। এ জন্য পথে সাধারণ মানুষের একটু কষ্ট সহ্য করতে হলেও সমস্যা নেই।
বিকেল ৩টায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ও জেলার ৩৩টি প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন ও ৩৩টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন।
রবিউল এহসান রিপন/আরএআর/জেআইএম