আগামীকাল ৩১ মার্চ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উৎসব। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। এ উপলক্ষে শায়েস্তাগঞ্জের রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সাজানো হচ্ছে নতুন রূপে।
ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব অশোক মাধব রায় বলেন, অনুষ্ঠান উপলক্ষে ৬ মাস ধরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে দেশ ও দেশের বাইরে থাকা শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।
তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির।
আয়োজক কমিটি জানায়, বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শতবর্ষ পূর্তি উৎসবের শুরু হবে। বেলা ১২টায় ভাষন দেবেন স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। এরপর পর্যায় ক্রমে মধ্যাহ্নভোজ, স্মৃতিচারণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।
এছাড়াও শতবর্ষ পূর্তি উৎসব কমিটির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী শায়েস্তাগঞ্জের ১১ কৃতি সন্তানকে দেয়া হচ্ছে সম্মাননা।
তারা হলেন, বিদ্যালয়ের জমিদাতা সতীষ চন্দ্র দেব (মরণোত্তর), সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ এবিএম মাহমুদ হোসেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জেআর মোদাচ্ছির হোসেন, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এমানুল হক মোস্তফা শহীদ (মরণোত্তর), শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক (মরণোত্তর) মহেশ চন্দ্র চক্রবর্তী, শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক (মরণোত্তর) আব্দুন নূর চৌধুরী, আন্তর্জাতিক স্বনামধণ্য বিজ্ঞানী ও গবেষক ড. দেওয়ান এসএ মজিদ, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি এসএম মিজানুর রহমান, শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কুমিলা বোর্ডে এসএসসিতে দ্বাদশ স্থান অর্জনকারী প্রাক্তণ ছাত্র প্রফেসর মো. আবিদুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ উদ্দিন ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব অশোক মাধব রায়। সম্মানা প্রাপ্তদের মাঝে যারা প্রয়াত তাদের পরিবারের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিবেন স্পিকার।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ‘যদি থাকে নসিবে’ খ্যাত শিল্পী সামছুল হক (চিশতি বাউল) ও পাওয়ার ভয়েজ স্বজল, পাওয়ার ভয়েজ আয়শা মৌসুমী ও মিরাক্কেলের সাইদুর রহমান পাভেলসহ দেশের স্বনামধন্য শিল্পীরা।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সভাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ সদর-লাখাই আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ ও পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে তারা শতবর্ষ পূর্তি উৎসব সফলের লক্ষে আয়োজিত র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।
উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা ও শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. ছালেক মিয়া জানান, এই উৎসবটিকে ঘিরে শায়েস্তাগঞ্জে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তিনি তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার পক্ষ থেকে সকল সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানান।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা বলেন, স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর শায়েস্তাগঞ্জ আগমন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দফায় দফায় মিটিং করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আঠারো শতাব্দীর মধ্যলগ্নে ঢাকার বিক্রমপুরের ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান নবীন চন্দ্র দেব শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজারে এসে বসবাস শুরু করেন এবং ১৮৬১ সালে একটি তাঁত কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। জমিদার নবীন বাবুর তিরোধানের পর তার একমাত্র সন্তান সতীশ চন্দ্র দেব জমিদারির মালিক হন। সতীষ চন্দ্র দেব ছিলেন অময়িক শিক্ষানুরাগী ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন সুপুরুষ। শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮.২৫ একর ও শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ভূমি মূলত জমিদার সতীশ চন্দ্ররই দান করা।
১৯১৮ সালে শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকৈই আমৃত্যু তিনি ছিলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। তার বড় ছেলে সুরেশ চন্দ্র দেব ১৯৪৮ সালে অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন। জমিদার সতীশ চন্দ্র দেব ব্যক্তিজীবনে জ্ঞানপিপাসু ও অত্যন্ত সরল জীবনযাপনের অধিকারী ছিলেন।
কামরুজ্জামান আল রিযাদ/এমএএস/পিআর