দেশজুড়ে

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

নারী শিক্ষা প্রসারে অন্যতম ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত। খোলা আকাশের নিচে বসেই চলছে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ ও বেঞ্চ স্বল্পতার কারণে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষাকার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। জেলার পুরনো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাঠামোসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন বাইমহাটি মৌজায় ২৫৫ শতাংশ জমির ওপর মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক এমপি ফজলুর রহমান খান ফারুক।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে উপজেলা সদরসহ আশপাশের কমপক্ষে অর্ধশত গ্রামের ছাত্রীরা শিক্ষার সুযোগ পায়। ইতোমধ্যে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক ছাত্রী উচ্চ শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়টি সফলতার জন্য ২০০৪ সালে জাতীয় পুরস্কারও পায়।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে এসএসসি সাধারণ শাখা ও ভোকেশনালের তিনটি ট্রেডসহ ১ হাজার ৫৪১ জন ছাত্রী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষার্থীদের চাপের কারণে চারটি শাখায় পাঠদান করা হয়। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে চরম শিক্ষক সংকট।

এছাড়া নীতিমালা অনুয়ায়ী বিদ্যালয়টিতে ৪০ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ২৫ জন শিক্ষক। ক্লাস রুম ও বেঞ্চ সংকটের কারণে গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে হয় ছাত্রীদের। অনেক সময় উপস্থিতি বেড়ে গেলে বারান্দা ও খোলা আকাশে নিচে মাঠে বসে ক্লাস করতে হয়। তাও আবার এক শিক্ষক দিয়ে দুই পাশে দুই শাখার ছাত্রীদের বসিয়ে ক্লাস নিতে হয়। বিদ্যালয়টিতে একাডেমিক কোনো ভবন নেই।

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ফজলুর রহমান খান বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে একটি গেট, ছাত্রীদের জন্য ওয়াশরুম ও শ্রেণিকক্ষের উন্নয়নে ৪১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান উদ্দিন জানিয়েছেন।

বর্তমান সরকারের সময়ে উপজেলার প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ, রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজ কালভার্টসহ অনেক উন্নয়ন কাজ হলেও বিদ্যালয়টিতে নতুন কোনো ভবন নির্মাণ না হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা জামান শীতল, অভিভাবক আসাদুজ্জামান বাবুল বলেন, বিদ্যালয়টিতে লেখাপড়ার মান ভালো। বিদ্যালয়টিতে বহুতল কোনো ভবন নেই। বছরের প্রায় ছয় মাস ছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক বেশি থাকে। ওই সময় শ্রেণিকক্ষে গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে হয়। অনেক সময় মাঠে ও বারান্দায় বসে মাটিতে বসে ক্লাস করতে হয়। এখন বৃষ্টির দিন অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষের চাল দিয়ে পানি পড়ে। এতে লেখাপড়ার মারাত্মক ক্ষতি হয়।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, নারী শিক্ষায় ভূমিকা রাখায় বিদ্যালয়টি ২০০৪ সালে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে জাতীয় পুরস্কার ও ২০১৪ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে উদ্দীপনা পুরস্কার পায়।

মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাঠামোর উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়টিতে ভবন ও শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবন নির্মাণের জন্য চেষ্টা করছেন। কি কারণে হচ্ছে না তা আমার জানা নেই।

এস এম এরশাদ/এএম/আরআইপি