শরীয়তপুরের নড়িয়া-জাজিরার পদ্মা নদীর ডানতীরে বেড়িবাঁধের কাজ শুরু করার দাবিতে গ্যাস সিলিন্ডার, গাছের গুঁড়ি ও পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি দিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়ক অবরোধ করে রাখে এলাকাবাসী। এ সময় তারা নড়িয়া-জাজিরা, নড়িয়া-ঢাকা সড়ক, নড়িয়া-ভেদরগঞ্জ ও নড়িয়া-শরীয়তপু সদর সড়কসহ স্থানীয় সকল সড়কে সব ধরণের যানবাহন চলাচলা বন্ধ করে দেয়।
বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি অংশ হিসেবে নড়িয়া উপজেলার সকল হাট বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছে আন্দোলনকারী সমন্বয় কমিটি।
এর আগে গত ২৯ মার্চ বর্ষার আগেই প্রকল্পের কাজ শুরুর দাবিতে ৭ দিন ব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে ভাঙন কবলিত এলাকাবাসী। এছাড়া একই দাবিতে বেশ কয়েকদিন থেকে নড়িয়া পৌর বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশে চলছে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, নড়িয়া-জাজিরা উপজেলা বহু বছর ধরে পদ্মা নদীর ভাঙনের ফলে দুটি উপজেলা শরীয়তপুর জেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। আমরা ভাঙন কবলিত এলাকাবাসী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে বহু আন্দোলন সংগ্রামের ফলে গত ২ জানুয়ারি একনেক সভায় বেড়িবাঁধে প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রকল্পটির দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ করা না হলে নড়িয়া পৌর বাজার, সড়িয়া গার্লস হাই স্কুল, নড়িয়া সরকারি কলেজ, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সুরেশ্বর দরবার শরীফ, সুরেশ্বর স্কুল এন্ড কলেজ, কাজিয়ার চর ছমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়সহ নড়িয়া জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি আগামী বর্ষা মৌসুমের পূর্বে শরীয়তপুরের নড়িয়া-জাজিরা উপজেলা এলাকার পদ্মা নদীর ডানতীরে বেড়িবাঁধের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা হোক। তা না হলে এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এ সময় শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, নড়িয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বিএম মনির, মোক্তারের চর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুদ্দিন মুন্সী, মাস্টার সাইদুল হক, রুবেল হাওলাদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহেদ আলী বেপারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাজেক মোল্যা, মেম্বার মজিবর মোল্লা, ব্যবসায়ী কাজী ওয়াসিম জাবেদ, সমাজ সেবক মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গেল বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙনে নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার প্রায় দুই হাজার পরিবার গৃহহীন হয়। ভাঙনে বিলিন হয়ে যায় প্রায় ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
মো. ছগির হোসেন/আরএ/জেআইএম