দেশজুড়ে

বরগুনায় তরমুজ চাষে আগ্রহ নেই কৃষকের

দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎপাদিত তরমুজের চেয়ে বরগুনার তরমুজ অপেক্ষাকৃত সুস্বাদু হওয়ায় দেশজুড়ে এর চাহিদা ব্যাপক। গত কয়েক বছর ধরে এই জেলায় বিপুল পরিমাণ তরমুজ আবাদ করে লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। কিন্তু গত বছরের অকাল বৃষ্টি এবং তরমুজের ট্রাকে চাঁদাবজির কারণে তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন তারা।

অকাল বৃষ্টিতে তরমুজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসান গুণতে হয়েছে চাষিদের। অন্যদিকে তরমুজের ট্রাকে চাঁদাবাজির ফলে পাইকারদের এই জেলার তরমুজ না কেনার কারণে অনেক উৎপাদিত তরমুজ নষ্ট হয়েছে খেতেই।

একদিকে তরমুজ চাষে লোকসান ও অন্যদিকে বোরো ধানের দাম বৃদ্ধির ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এই ফল আবাদে আগ্রহ হারিয়েছেন কৃষকরা। ফলে তরমুজ চাষে কৃষি অধিদফতরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজ আবাদ হয়েছে অনেক কম।

বরগুনা জেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় মোট তরমুজ আবাদ হয়েছে দুই হাজার ৫১৯ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলায় এক হাজার ১০ হেক্টর, আমতলীতে এক হাজার ৫০০ হেক্টর, তালতলীতে দুই হেক্টর, পাথরঘাটা উপজেলায় সাত হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর বরগুনায় সব থেকে বেশি তরমুজ আবাদ করা হয় আমতলী উপজেলায়। গত বছর শুধু এই উপজেলায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছিল।

কিন্তু এ বছর এত কম তরমুজ আবাদ করার কারণ সম্পর্কে উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কৃষক আবদুজ জব্বার বলেন, গত কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষ করে আমরা বেশ লাভবান হয়েছি। এ কারণে প্রতিবছর এই উপজেলার তরমুজ চাষিদের সংখ্যা বাড়ছিল। কিন্তু উপকূলীয় এই এলাকায় গত বছর হঠাৎ করে অকাল বৃষ্টির কারণে প্রায় চাষিই ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনেকে তরমুজ চাষের খরচ পর্যন্ত তুলতে পারেননি। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এই ফল চাষ না করে অন্যান্য রবি শশ্য উৎপাদনে মনোনিবেশ করেছেন তারা।

আমতলী উপজেলার চাওড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক সালেক মিয়া বলেন, ঋণ নিয়ে গত বছর আমি পাঁচ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলাম। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে আমার প্রায় সব জমির তরমুজই নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে আমি ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ি। তাই এ বছর তরমুজ চাষ না করে সেই জমিতে মুগ ডাল আর বোরো ধানের আবাদ করেছি। ফলও ভালো হয়েছে। এই মুগ ডাল আর বোরো ধানের মাধ্যমেই গত বছরের তরমুজের ক্ষতি পূরণ হবে।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম বদরুল আলম বলেন, বেশ কয়েকটি কারণে এবার আমতলীতে তরমুজ আবাদ কমেছে। এর মধ্যে বোরো ধানের দাম বৃদ্ধি, তরমুজের বীজের দাম বৃদ্ধি এবং বৈরি আবহাওয়া অন্যতম।

তিনি বলেন, তরমুজ আবাদের সময় এ বছর বরগুনায় অকাল বৃষ্টি হয়েছে। তাই ঝুঁকি থাকায় কৃষকরা তরমুজ কম আবাদ করেছেন। এছাড়ও আতলীতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২০ হেক্টর জমি। কিন্তু হঠাৎ করে বোরো ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষক বেশি লাভের আশায় প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছে। তাই তরমুজ আবাদের পরিমাণ প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর অনেক কম বলে জানান তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শাইনুর আজম খান বলেন, উপকূলীয় এই জেলায় তরমুজ চাষ অত্যন্ত ঝঁকিপূর্ণ। অকাল বৃষ্টির কারণে তরমুজ চাষ করে গত বছর চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর ফলে এ বছর বরগুনায় তরমুজ চাষ অনেক কমেছে।

সাইফুল ইসলাম মিরাজ/আরএআর/জেআইএম