তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ঢাকা থেকে তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে রোডমার্চের দ্বিতীয় দিনে রোববার বেলা ১১টায় বগুড়ার সাতমাথায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ বগুড়া জেলার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পল্টু। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, জাহেদুল হক মিলু, রাজেকুজ্জামান রতন, বাসদ নওগাঁ জেলা সমন্বয়ক জয়নাল আবেদীন মুকুল, বগুড়া জেলা সদস্যসচিব সাইফুজ্জামান টুটুল, মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুল হক দুলু, শিক্ষাবিদ শ্যামল ভট্টাচার্য্য, সিপিবি বগুড়া জেলা সভাপতি জিন্নাতুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলন জেলা সমন্বয়ক আব্দুর রশিদ ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা শান্ত প্রমুখ।
সমাবেশে রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, শুধু তিস্তার পানিরই সমস্যা নয়, ফারাক্কার প্রভাবে গোটা উত্তরবঙ্গ মরুভূমি হওয়ার পথে। ভারতের সঙ্গে পদ্মা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রসহ অভিন্ন ৫৪ নদীসহ ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদীর পানি বণ্টনের সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে এবং অভিন্ন নদীর পানি সমন্বিত ও যৌথ ব্যবস্থাপনা-ব্যবহার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং এ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চীন, ভারত, বাংলাদেশ, পেনপাল ও ভুটানের সঙ্গে যৌথ অববাহিকা কর্তৃপক্ষ গঠন করা প্রয়োজন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দখল দূষণে ও ভ্রান্তনীতির কারণে দেশের ১২০০ নদী কমে ২৩০টিতে নেমে এসেছে। নদী এখন খালে পরিণত হয়েছে। দেশের চতুর্থ বৃহত্তম নদী তিস্তায় এবারে শুষ্ক মৌসুম আসতে না আসতেই পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। তিস্তা ব্যারেজের বিভিন্ন ক্যানেলের মাধ্যমে ১ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে যে সেচ সুবিধা প্রদান করা হত, তা এখন কমতে কমতে বন্ধ হওয়ার পথে। এভাবে চলতে থাকলে নদীমাতৃক বাংলাদেশ অনিবার্যভাবে মরুভূমিতে পরিণত হবে। তাই বক্তারা তিস্তাসহ সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি জানান।
লিমন বাসার/এএম/পিআর