চলতি মাসে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩৯২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ১২ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩২ জন। মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া রোগীর উপছে পড়া ভিড়। ডায়রিয়া ওয়ার্ড জায়গা না হওয়ার কারণে হাসপাতালের বারান্দাসহ বিভিন্নস্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। এর মাঝখান দিয়ে হাঁটা চলা করছে চিকিৎসক, নার্স ও রোগীর স্বজনরা।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ভর্তির পর তাদের খাবার স্যালাইন ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হচ্ছে না হাসপাতাল থেকে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধ তাদের বাইরে থেকে কিনেতে হচ্ছে। তাছাড়া বাথরুম এবং হাসপাতালের ময়লা আবর্জনা আরও অসুস্থ করে দিচ্ছেন রোগী ও রোগীর স্বজদের। তারা নিজেরাই থাকার স্থান পরিষ্কার করাসহ ও স্প্রে করে দুর্গন্ধ মুক্ত করার চেষ্টা করছেন।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ডায়রিয়া ওয়ার্ড সূত্র জানায়, চলতি মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩৯২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং গত ১২ ঘণ্টায় রাত ১২টা থেকে ভর্তি হয়েছে ৩২ জন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ৮টি বেডের বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি আছে ৫২ জন। এর মধ্যে শিশু, বৃদ্ধ ও নারী রোগী।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.আলী আহসান জানান, রাজবাড়ীতে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও মহিলা। যার মধ্যে মহিলা রোগীর সংখ্যা বেশি। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় রোগীদের আন্তবিভাগের বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হঠাৎ করে ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ডায়রিয়া রোগের ওষুধ পর্যাপ্ত না থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যবহত হচ্ছে। এ বিষয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেকে অবহিত করেছেন। আশা করছেন দ্রুত তারা ডায়রিয়া রোগের ওষুধ পাবেন এবং যথাযথভাবে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে পারবেন।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. মো. রহিম বকস জানান, হঠাৎ করেই দুই তিন যাবৎ হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। মূলত এখন গরমের দিন, আর গরমের দিনগুলোতেই ডায়রিয়া রোগ বেশি হয়। গরমে মাছির উপদ্রব বাড়ে, খাবার সহজে নষ্ট হয়ে যায় আর খাবার সংরক্ষণের সঠিক উপায় না জানার কারণে এ সমস্যা হয়ে থাকে। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের এখন পর্যন্ত মারাত্মক কোনো সমস্যা হয়নি।
তিনি জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন নাই, চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এসে গেলে পুরোপুরি সেবা দেওয়া যাবে। হাসপাতালের পরিবেশ সুন্দর রাখতে পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং বাড়তি রোগীদের অন্যত্র নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
রুবেলুর রহমান/আরএ/পিআর