দেশজুড়ে

ডিম পেড়েছে খানজাহানের মাজারের কুমির

বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.) এর মাজারের দিঘির মিঠা পানির মা কুমির আবারও ডিম পেড়েছে। ৬০ থেকে ৭০টি ডিম পেড়ে সেগুলো থেকে বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করছে কুমিরটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রোদের মধ্যে দিঘির উত্তর পাড়ে মা কুমিরটি মাটি আঁকড়ে আছে। সেখানে গর্ত খুঁড়ে ডিম ঢেকে রেখেছে ওই কুমিরটি। শনিবার ও রোববার ডিম পাড়ার পর এখন বাচ্চা ফোটানোর জন্য ‘তা’ দিচ্ছে। আগ্রহী মানুষ কাছে গেলেই তেড়ে আসছে কুমিরটি। সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছেন মাজারের খাদেমরা। কুমিরের ডিম দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় অনেকটা বেড়েছে খানজাহানের মাজারে। মা কুমিরটি ডিম মাটির ধুলো দিয়ে ঢেকে রেখে বাচ্চা ফুটানোর জন্য ‘তা’ দিতে থাকায় ডিমের সঠিক সংখ্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এবার খানজাহানের মাজারের দিঘির কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা জম্ম নেবে এমন প্রত্যাশা মাজারের খাদেমদের।

হজরত খানজাহান (রহ.) আমল থেকে প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর ধরে মাজারের দিঘিতে ‘কালাপাড়’ ও ‘ধলাপাড়’ নামের মিঠা পানির কুমির বংশ পরাম্পর (মার্স কোকোডাইল) বসবাস করে আসছে। তবে, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হজরত খানজাহানের আমলের কুমিরের শেষ বংশধরটি মারা যায়। বর্তমানে দিঘিতে কালাপাড় ও ধলাপাড়ের কোনো বংশধর নেই। ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ কোকোডাইল ফার্ম থেকে পাওয়া ৪০টি মিঠা পানির কুমির ছানার মধ্যে ছয়টি কুমির খানজাহানের দিঘিতে ছাড়া হয়েছে। ওই সময়ে ছাড়া মাদি ও পুরুষ কুমিরগুলোই এখন এই দিঘিতে বসবাস করছে।

হযরত খানজাহানের মাজারের প্রধান খাদেম শের আলী ফকির জানান, গত শনিবার রাতে ও রোববার মা কুমিরটি দিঘির উত্তর পাড়ে গর্ত খুঁড়ে আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০টি ডিম পেড়েছে। ওই ডিম ধুলামাটি দিয়ে ঢেকে বাচ্চা ফোটাতে এখন ‘তা’ দিচ্ছে কুমিরটি। মাঝেমধ্যে খুব অল্পসময়ের জন্য কুমিরটি দিঘিতে নেমে আবার ফিরে আসছে ডিমে তা দিতে। আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত কুমিরটি ডিমে তা দেয়ার পর বাচ্চা জন্মাবে এমন প্রত্যাশা মাজারের প্রধান খাদেমের।

মাজারের প্রধান খাদেম আরও জানান, হজরত খানজাহান (রহ.) এ দিঘিতে কালাপাড় ও ধলাপাড় নামে দুটি কুমির লালন-পালন করতেন। ওই জুটির কোনো বংশধর এখন আর বেঁচে নেই। এখন ভারত সরকারের দেয়া মিঠা পানির কুমির এখন দিঘির শেষ সম্বল। কয়েক বছর ধরে এই দীঘির মাদি কুমির ডিম পাড়লেও তাতে বাচ্চা ফুটছে না। কুমিরের বংশবৃদ্ধি না হলে দিঘিটি তার সাড়ে ৬০০ বছরের ঐতিহ্য হারাবে। তাই দিঘিতে কুমিরের বংশ বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

শওকত বাবু/আরএআর/এমএস