দেশজুড়ে

সেতুর অর্ধেক আছে অর্ধেক নেই

পিরোজপুর সদর উপজেলার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর-বাঁশবাড়িয়া গ্রামের খালের ওপর সেতুটির দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশা। অনেক আগেই সেতুটির অর্ধেক অংশ ভেঙে খালে পড়ে গেছে। বাকি অর্ধেক দাঁড়িয়ে আছে। ওই অর্ধেক অংশের সঙ্গে গাছ-বাঁশ দিয়ে জোড়া লাগিয়ে চলাচল করছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশবাড়িয়া গ্রামের এই জোড়া লাগানো সেতুর ওপর দিয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। অনেক আগেই সেতুর অর্ধেক অংশ ভেঙে খালে পড়ে যায়। এর পর আর কোনো সংস্কার করা হয়নি।

ফলে জোড়া লাগানো সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে শিক্ষার্থী, শিশু ও বৃদ্ধদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেতুর অর্ধেক ভেঙে পড়ায় ৬ কিলোমিটার পথ ঘুরে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ভ্যান নিয়ে চলাচল করছে স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানায়, এখানে রয়েছে মৎস্যবন্দর। যেটি সবার কাছে পাড়েরহাট মৎস্যবন্দর নামে পরিচিত। নির্মিত লোহার সেতুর একাংশ নয় মাস আগে ভেঙে যায়। বাকি অংশ এখনো আছে। কিন্তু এর মধ্যে সেতুটির সংস্কার করা হয়নি।

স্থানীয়রা সেতুর ভেঙে যাওয়া অংশে গাছ-বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। সেতুর বেহাল অবস্থার কথা পিরোজপুর এলজিইডির কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আফাজ উদ্দিন খালের ওপর ৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের লোহার সেতু নির্মাণ করা হয়। এক বছর আগে একটি বালুবাহী ট্রলার খাল দিয়ে যাওয়ার সময় সেতুর সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে সেতুটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। গত বছরের জুলাই মাসে সেতুর উত্তর অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে স্থানীয় লোকজন চলাচলের জন্য সেতুর ভাঙা অংশে সুপারি ও বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে।

উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হালিম মৃধা বলেন, সেতুটি মেরামত করতে ৬ লাখ টাকার প্রয়োজন। এলজিইডির সেতু মেরামতের জন্য তহবিল নেই। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেতুটি মেরামতের জন্য চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পিরোজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী সুভাস চন্দ্র মালাকার বলেন, এলজিইডি নতুন কোনো লোহার সেতু নির্মাণ করছে না। পুরাতন লোহার সেতুগুলো মেরামতের জন্য বরাদ্দ নেই। ফলে সেতুটি মেরামত করা যাচ্ছে না। এখন নতুন করে সেখানে গার্ডার সেতু নির্মাণ করতে হবে।

পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, আমি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) যে বরাদ্দ পাই তা দিয়ে এক থেকে দুই লাখ টাকা দিতে পারি। তাতে সেতুটির মেরামত হবে না। ওই খালের মোহনায় সেতু নির্মাণ না করে একটি জলকপাট নির্মাণ করলে ভালো হয়। এ জন্য আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

হাসান মামুন/এএম/এমএস