পূর্ব খাবাসপুরের দরিদ্র অটোচালক পরিবারের সন্তান অধরা আক্তার মিনু। দরিদ্র বাবা সারাদিন অটো চালিয়ে যা আয় করেন তা দিয়ে পাঁচজনের পরিবার চালানো তার পক্ষে কষ্টকর হয়ে পড়ে। দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্তি পেতে ছোট বয়সেই বড় মেয়ে অধরা আক্তার মিনুকে বিয়ে দেন ফেনীর এক চাকরিজীবীর সঙ্গে। স্বপ্ন ছিল মেয়েটি সেখানে ভালো থাকবে। কিন্তু বিধি বাম। কিছুদিন যেতে না যেতেই দরিদ্র বাবার স্বপ্ন ভেঙে গেল। যৌতুকের জন্য মেয়ের ওপর নির্যাতনের খবর তাকে দিশেহারা করে তোলে। যে স্বপ্ন নিয়ে মিনু ঘর করতে এসেছিল, সেখানে যৌতুকের কাটা এসে বিধল। এ নির্যাতনের মধ্যেই মিনুর কোলজুড়ে এলো একটি ফুটফুটে সন্তান। এতে আরও বেড়ে গেল স্বামীর নির্যাতন। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের মাস কয়েক আগেই মিনুর স্বামী আরেকটি বিয়ে করে মিনুকে ঘর থেকে বের করে দিল।
দরিদ্র বাবার আশ্রয়ে কোলের সন্তানসহ মিনু বাবার বাড়ি চলে এলো। অনিশ্চিত এই জীবনে হঠাৎ করেই আশার প্রদীপ নিয়ে এগিয়ে এলো লিগ্যাল এইড। তাদের পরামর্শে মিনু স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতনসহ তার অনুমতি ব্যতিরেকে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য মামলা করলো। অস্বচ্ছল দরিদ্র মিনুকে লিগ্যাল এইড বিনামূল্যে সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করলো। মামলায় ভীত হয়ে মিনুর স্বামী লিগ্যাল এইডের এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি) এর প্রস্তাবে সম্মত হলো। লিগ্যাল এইডের সহায়তায় এফডিআরের মাধ্যমে মিনুকে ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ভরণপোষণ দিতে বাধ্য হলো তার স্বামী মাইনউদ্দিন।
লিগ্যাল এইডের এই আইনি সহায়তার মাধ্যমে মিনু ফিরে পেল তার প্রাপ্য মর্যাদা ও আর্থিক স্বচ্ছলতা। এখন মিনু ঢাকার একটি বায়িং হাউসে চাকরি করেন। তার মতো পরিণতি যেন তার সন্তানদের না হয় এজন্য মিনু সন্তানদের পড়ালেখাসহ উন্নত ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।
লিগ্যাল এইড অসহায় মিনুর জীবনে এনে দিয়েছে মর্যাদা ও মানুষের মতো বাঁচার অধিকার। মিনুসহ তার সন্তানদের সামনে একটি উজ্বল ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে লিগ্যাল এইড।
মিনুর মতো আরও একজন নির্যাতিত নারী ইসমত আরা জেসমিন। যৌতুক আর স্বামীর নির্যাতনে সতের বছরের বিবাহিত জীবনকে ইতি টানতে বাধ্য হয়েছেন তিনিও। ফরিদপুর সদরপুর উপজেলার চরবালাইশাহ’র দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান জেসমিন। মিনুর মতো স্বপ্ন নিয়ে সেও গাজীপুরের মফিজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে জীবন সঙ্গী করেছিল। কিন্তু যৌতুকের অভিশাপ তার জীবনকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছিল। স্বামীর নির্যাতন ও পরবর্তী পর্যায়ে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে তাকে বাধ্য করেছিল বাবার বাড়ি ফিরে আসতে। বাবার বাড়ি এসে অন্ধকারে ঢাকা পড়ছিল জেসমিন ও তার দুটি সন্তানের জীবন। এই অন্ধকার জীবনে আলোর প্রদীপ নিয়ে পাশে এসে দাঁড়ায় লিগ্যাল এইড। আইনের মাধ্যমে জেসমিনের স্বামীকে বাধ্য করলো স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে। লিগ্যাল এইডের সহায়তার জেসমিন পেল ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও সন্তানদের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকার ভরণপোষণ।
অধরা আক্তার মিনু ও ইসমত আরা জেসমিনের সঙ্গে কথা হয়। এখন কেমন আছেন, জানতে চাইলে উভয়ের সুরই এক ছিল। স্বামীর নির্যাতন আর দারিদ্র্যের কারণে যে অসহায় অবস্থার মধ্যে আমরা ছিলাম, এখন সেই কথা ভাবলেও গা শিউরে উঠে। কোনো নারীর জীবনে যেন এ অবস্থা না আসে এ প্রার্থনা করি সব সময়। লিগ্যাল এইড সংস্থাটি আমাদেরকে মানুষের মতো বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। এই সংস্থা একদিকে আমাদেরকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করেছে অপরদিকে ফিরিয়ে দিয়েছে সামাজিক মর্যাদা। বর্তমান সরকার আমাদের মতো অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে এই যে আইনি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে তা আমাদের জীবনে আশার আলো জ্বালিয়েছে। আমরা আশা করি লিগ্যাল এইড আমাদের মতো নির্যাতিত অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে সব সময় থাকবে।
মিনু, জেসমনি, রুনাসহ আরও অনেক নির্যাতিত অসহায় দরিদ্র নারীর জীবনে লিগ্যাল এইড জ্বেলে দিয়েছে আশার আলো। মানুষের মতো বাঁচার অধিকার তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছে লিগ্যাল এইড। প্রান্তিক অসহায় দরিদ্র নারী পুরুষদের বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা প্রদান করে লিগ্যাল এইড আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে অবিরত। সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা জাতীয় অগ্রগতি ও একটি সুসভ্য জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করতে সরকারের এই আইনগত সহায়তা প্রতিষ্ঠানটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মানুষকে তার আইনগত সহায়তা প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সরকারের এই আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান।
ফরিদপুর জেলা লিগ্যাল অফিস সূত্র জানায়, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির বিভিন্ন মামলা পরিচালনা ও এডিআর-এর মাধ্যমে আইনি পরামর্শ প্রদান করে আসছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ২০১৭ সালে ৩০৪টি ও ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৭টি মামলায় আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে অসহায় মানুষকে সহায়তা প্রদান করেছে।
এছাড়া বর্তমানে ফৌজদারী ১ হাজার ৩৪৩টি, দেওয়ানি ৪৭৬টি এবং পারিবারিক ৩৮৩টি মামলার সহায়তা প্রদান করছে।
এদিকে ২০১৭ সালে ২৫৭টি এডিআর (আপোষযোগ্য বিরোধ বা মামলা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি) এর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। ভুক্তভোগীদের ৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৮০টি আবেদনের প্রেক্ষিতে ৭২টি আবেদন এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। ৯১ জন ব্যক্তিকে আইনজীবীর মাধ্যমে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে এবং ৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ভুক্তভোগীদের দেয়া হয়েছে।
জেলায় ২৭ সদস্য বিশিষ্ট আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটি রয়েছে। এই কমিটির চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ। বর্তমানে ফরিদপুরে কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা ও দায়রা জজ মো. হেলাল উদ্দিন। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সহকারী জজ) মানিক দাস।
এছাড়া জেলার ৯টি উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে ও ৮১টি ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে আইনগত সহায়তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির আওতাধীন ৪২ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী আইনজীবী প্যানেল রয়েছে। এসব আইনজীবীরাই মামলার শুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
সবার জন্য আইনের আশ্রয় লাভ করা সহজতর করার জন্য সরকার আইনগত সহায়তা প্রদান আইন প্রনয়ন করেন। প্রতিটি জেলায় গঠন করা হয় আইনগত সহায়তা কমিটি ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার একজন সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তা, যিনি আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, সহায় সম্বলহীন অসহায় মানুষদের আইনি সহায়তা প্রদান করে আসছেন। এই কার্যক্রমের ফলে দেশে বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। লিগ্যাল এইডের আওতায় অসহায় মানুষ পেয়েছে মুক্তির স্বাদ। সরকার তাদের জন্য খুলে দিয়েছে স্বাধীনতার অবারিত দ্বার।
ফরিদপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সহকারী জজ) মানিক দাস বলেন, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, দুস্থ, সহায়-সম্বলহীন, অসহায় মানুষদের আইনি সেবা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে লিগ্যাল এইড অফিস।
তিনি বলেন, আইনগত পরামর্শ, দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ, ফি পরিশোধসহ মামলা-সম্পর্কিত সব ধরনের ব্যয়, ডিএনএ পরীক্ষার যাবতীয় ব্যয়, জেল আপিল, বিনামূল্যে রায়ডিক্রি, ফৌজদারি মামলায় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ব্যয়সহ বিবিধ খরচ সরকারিভাবে বহন করা হয়। তিনি আরও বলেন, অস্বচ্ছল বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, দুস্থ মহিলা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শারীরিক মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু, মানব পাচারের শিকার কোনো ব্যক্তি, ভিজিডি কার্ডধারী দুস্থ মাতা, দুর্বৃত্ত দ্বারা অ্যাসিড দগ্ধ নারী ও শিশু, বিনা বিচারে আটক ব্যক্তি, শ্রমিক, অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাসহ যে ব্যক্তির আয় বছরে এক লাখ টাকার নিচে, সেই ব্যক্তিই সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পাবেন। লিগ্যাল এইড অফিসার বলেন, ফৌজদারি, দেওয়ানি ও পারিবারিক মামলার আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) এর মাধ্যমে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে আপোষ মীমাংসা করে দেয়া হয়।
তিনি বলেন, আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য যে কোনো ব্যক্তি সরাসরি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে উপস্থিত হয়ে জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির কাছে আইনি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এছাড়াও উপজেলা অথবা ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমেও জেলা কমিটির কাছে আইনি সহায়তার আবেদন করা যাবে।
বৃষ্টি আক্তার। প্রতারণার শিকার একটি অসহায় নারীর নাম। শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলীর সুন্দরী বৃষ্টি আক্তারকে প্রেমের ফাঁদে জড়িয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিয়ে করে ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের অলিপ নামের এক বখাটে। নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করে তারা। পরিবারের অসম্মতিতে বিয়ে করায় অলিপ বৃষ্টিকে নিয়ে অনেকটা মধুচন্দ্রিমা যাপনের মতো কয়েক মাস বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। মধুচন্দ্রিমার মধু মাসেই বৃষ্টি অনুভব করে তার মধ্যে দ্বিতীয় আরেকজনের অস্তিত্ব। এখবর পেয়ে বখাটে অলিপের মধুচন্দ্রিমা মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যায়। নোটারি পাবলিকের কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলে সে অস্বীকার করে বৃষ্টিকে। ফেলে দেয় তাকে ছেড়া কাগজের মতো। অসহায় বৃষ্টি আশ্রয় নেয় এক বান্ধবীর বাড়িতে। আর এই বান্ধবীর মাধ্যমেই লিগ্যাল এইড এসে দাঁড়ায় বৃষ্টির পাশে। তার নারীত্বের অধিকার ফিরিয়ে আনতে লিগ্যাল এইড বখাটে অলিপের বিরুদ্ধে চালিয়ে যাচ্ছে আইনি লড়াই।
শুধুমাত্র বৃষ্টি আক্তারই নয়। প্রেমের ফাঁদে পড়া অসহায় স্মৃতি আক্তার স্বপ্নার মতো আরও কয়েকজন নারীর অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে লিগ্যাল এইড। প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরি করা স্মৃতিকে ধর্ষণ করে একই প্রতিষ্ঠানের আরিফ মোল্লা। পরবর্তীতে যখন স্মৃতি গর্ভবতী হয়ে পড়ে তখন বিয়ে করার জন্য আরিফকে অনুরোধ করলে আরিফ সময়ক্ষেপণ করা শুরু করে। একসময় তাকে অস্বীকার করে আরিফ।
স্মৃতি জানান, আরিফ যখন আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে তখন আমার মাথায় পাহাড় ভেঙে পড়ে। নিজেকে তুচ্ছ ধুলিকনার মতো মনে হয়। এ মুখ আমি কোথায় দেখাব। আমার সামনে আমাবশ্যার অন্ধকার নেমে আসে। এসময় এক বান্ধবীর মাধ্যমে আমি লিগ্যাল এইডের সন্ধান পাই। তাদের কাছে বিষয়টি বলার পর তারা আমার পাশে এসে দাঁড়ায়। আমার অন্ধকার জীবনে আলোকবর্তিকা হয়ে আসে তারা। লিগ্যাল এইড আমার পক্ষ হয়ে মামলা লড়ছে। স্মৃতি আশা প্রকাশ করেন, লিগ্যাল এইড আমার মর্যাদা ফিরিয়ে দেবে।
চরভদ্রাসন উপজেলা চেয়ারম্যান এ জি এম বাদল আমিন বলেন, অসহায় দরিদ্র মানুষকে আমরা প্রথমে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকি। যদি কেউ এতে সন্তুষ্ট না হয় কিংবা যে সব মামলা গ্রাম আদালত পরিচালনা করতে পারে না সেই সমস্ত মামলাগুলো লিগ্যাল এইডে পাঠানো হয়। লিগ্যাল এইডের আইনি সহায়তা পেয়ে এ উপজেলার অনেক দরিদ্র অসহায় মানুষ উপকৃত হয়েছে। লিগ্যাল এইড কার্যক্রম দরিদ্র মানুষের জন্য ভরসার স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমএএস/এমএস