বাগেরহাটে স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিকের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে বাগেরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ দণ্ডাদেশ দেন।
একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাইফুল শেখ নামে অপর একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মোরেলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের দক্ষিণ কুমারিয়াজোলা গ্রামের ফাতেমা বেগম (৪৬) এবং একই গ্রামের মিরাজ উদ্দিন শেখের ছেলে শাহাজাহান শেখ (৬০)। ফাতেমা বেগম নিহত আল আমিন শেখের স্ত্রী এবং ফাতেমার কথিত প্রেমিক শাহজাহান শেখ।
মামলার নথির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সীতা রাণী দেবনাথ বলেন, ২০১৫ সালের ১৬ মার্চ সকালে মোরেলগঞ্জ উপজেলার আল আমিন শেখ ওরফে আলাম ঢাকার কেরানীগঞ্জ তার ছেলে শেখ মোহম্মদ আলীর বাসা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ঢাকায় কর্মরত তার ছেলে শেখ মোহম্মদ আলী তার বাবার সন্ধান না পেয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
এ ঘটনায় নিখোঁজ আল আমিনের ব্যবহ্নত মোবাইলফোন ট্র্যাকিং করে তার অবস্থান বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জানতে পারে পুলিশ। এরপর পুলিশ আল আমিনের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে গ্রেফতার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে স্বামীকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন ফাতেমা।
জবানবন্দিতে ফাতেমা জানান, তার সঙ্গে প্রতিবেশী শাহজাহানের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। ২০১৫ সালের ১৬ মার্চ তার স্বামী আল আমিন ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। এ সময় তিনি তার প্রেমিক শাহজাহান শেখকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি মো. মোবারক আকন বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (সিআইডি) পুলিশের পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম ২০১৬ সালের ১০ জুন নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও তার কথিত প্রেমিক শাহাজাহান শেখ এবং স্থানীয় সাইফুল শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। আদালতের বিচারক ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ আদেশ দেন।
শওকত আলী বাবু/এএম/আরআইপি