গোপালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্প বিসিক শিল্পনগরীর সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় সংশোধনী) কাজ গত এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে।
প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী বিসিক শিল্পনগরীতে প্রবেশ মুখে রেল প্রকল্প কর্তৃক আন্ডারপাস বা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ না করায় এই সম্প্রসারণ কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ।
জানা গেছে, দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দেন-দরবার শেষ হচ্ছে না। চলতি বছরের ৩০ জুন প্রকল্প সমাপ্তির কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু দুই মন্ত্রণালয়ের টানাপোড়েনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না বলে জানায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ।
গোপালগঞ্জে সম্প্রসারিত বিসিক প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে গোপালগঞ্জ-ভাটিয়াপাড়া-টুঙ্গিপাড়া রেললাইনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। রেল প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শর্তসাপেক্ষে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন বিসিকের অধিগ্রহণকৃত জমি থেকে ১৬.১০ একর জমি এওয়াজ বদল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তরের করে বিসিক।
ফলে বিসিক প্রকল্পটি মহাসড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে বিসিকে প্রবেশের জন্য সংযোগ সড়ক, আন্ডারপাস, ওভারপাস, ফুটওভার ব্রিজ, রেলস্টেশন নির্মাণ করে দেবে বলে রেলওয়ে বিসিকের জমি গ্রহণ শর্তে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমানে রেললাইনের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রেললাইন ক্রস করে শিল্পনগরীতে ভারি যানবহন, লরি ইত্যাদির চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হবে বিধায় বিদ্যমান অ্যাপ্রোচরোডে একটি দুই লেনের আন্ডারপাস বা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানায় বিসিক।
কিন্তু রেল প্রকল্পের পরিচালক বিসিকের ওই অ্যাপ্রোচরোডে আন্ডারপাস বা ব্রিজ নির্মাণে অপরাগতা প্রকাশ করে। এতে গত বছরের ১০ ডিসেম্বব শিল্পসচিবের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ৯ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি কমিটি গঠিত হয়। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ওই কমিটি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে।
এছাড়া বিসিক শিল্পনগরীর ৩৬০টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হলে এখানে কমবেশি ২৫০টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। পাশাপাশি পদ্মা সেতু চালু হলে মংলা বন্দর-ঢাকার মধ্যবর্তী গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ প্রকল্পে বিআরবি কেবল ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের ন্যায় শিল্প ইউনিট গড়ে ওঠবে। কাজেই মহাসড়ক থেকে সরাসরি বিসিকে প্রবেশের জন্য বর্তমান বিদ্যামান অ্যাপ্রোচরোডে আন্ডারপাস নির্মাণ করা যুক্তিযুক্ত বলে পরিদর্শন কমিটি ইতোমধ্যে শিল্প সচিবকে প্রতিবেদন দেয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এতেও কোনো কাজ হয়নি।
সর্বশেষ শিল্পমন্ত্রী আমির হোমেন আমু রেলমন্ত্রী মুজিবুল হককে আন্ডারপাস নির্মাণের জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন বলে জানা যায়। অ্যাপ্রোচরোডে আন্ডারপাস নির্মাণে রেল কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করছে। তারা হরিদাসপুরের নিমতলা সড়ক বিসিকের জন্য ব্যবহার করতে বলছে।
এই সড়ক ২-৩ ফুট উঁচু করলে নিমতলা আন্ডারপাসের সঙ্গে যানবাহনের ছাদ ঠেকে যাবে। যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে না। এই সড়ককে বিসিকের সঙ্গে সংযুক্ত করতে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। নির্মাণ করতে হবে নতুন রাস্তা।
এছাড়া রেল প্রকল্পের অর্থায়নে অ্যাপ্রোস সড়কে আন্ডারপাস করে দেয়ার শর্ত থাকলেও রেল কর্তৃপক্ষ তাতে বার বার অনিহা দেখাচ্ছে। এ কারণে শিল্পনগীর ১০ ভাগ কাজ ঝুলে আছে ১ বছর ধরে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে শিল্পনগরীর কাজ সম্পন্ন করা নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীর তীরে ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ঘেঁসে ৫০ একর জমির ওপর ৯৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ সম্প্রসারিত বিসিক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
ইতোমধ্যে বিসিকের সংযোগ সড়কের মাটি ভরাট, ভূমি উন্নয়ন, রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট, সীমানাপ্রাচীরসহ প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শিল্পনগরীতে ৩৬০টি শিল্প প্লটে ২৫০টি শিল্প ইউনিট গড়ে ওঠবে যাতে আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
গোপালগঞ্জ সম্প্রসারিত বিসিক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ এম জসীম উদ্দীন জানান, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে এই অঞ্চলে বড় বড় শিল্প কলকারখানা গড়ে ওঠবে। ইতোমধ্যে এই শিল্পনগরীতে শিল্প স্থাপনের জন্য দেশের খ্যাতনামা উদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্রকল্পের আর মাত্র ১০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করতে বাকি। আন্ডারপাস বা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা না হলে বিসিক শিল্পনগরীতে মহাসড়ক থেকে যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। এতে উদ্যোক্তারা মুখ ফিরিয়ে নেবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে না। প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাবে এবং প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
রেলওয়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে এ ব্যাপারে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। কখন কথা বলতে পারবেন জানতে চাইলে এখন তিনি ব্যস্ত আছেন এবং সময় হলে তিনি কথা বলবেন বলে জানান।
এস এম হুমাযূন কবীর/এএম/এমএস