দেশজুড়ে

পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত শতাধিক

কুড়িগ্রাম শহরে পাগলা কুকুরের আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পথচারীদের বিনা উসকানিতে কামড়াচ্ছে পাগলা কুকুর। রেহাই পাচ্ছে না শিশু থেকে বৃদ্ধরা।

পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে অর্ধশতাধিক মানুষ ভর্তি হয়েছে। রোগীর চাপে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুল হক প্রামাণিক বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভেকসিন মজুদ রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বাতেন (৩৭), কালাম (২৫), রফিকসহ (৪৫) বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোরবেলা ফজরের নামাজের সময় এবং দূরপাল্লার বাসগুলো শহরে আসার পর যাত্রীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় পাগলা কুকুরের দল।

এছাড়াও রাতে তারাবি নামাজের পর মুসল্লিদের ওপর কুকুরের হামলার ঘটনা ঘটছে। শহরের ডাকবাংলা পাড়ায় একটি কুকুর সাতজনকে আহত করে। এছাড়া পৌরসভা, পৌরবাজার, দাদামোড়, খলিলগঞ্চ, এলজিইডিমোড়, মাঠের পাড়, রাজারহাট এলাকায় বেশি কুকুর আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আল আমিন মাসুদ জানান, গত তিনদিনে শতাধিক রোগী পাগলা কুকুরের কামড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এর মধ্যে একজন রোগীকে ভর্তি করা হলেও বাকিরা ভ্যাকসিন নিয়ে চলে গেছেন। হাসপাতালে গত সপ্তাহে এক হাজার ভেকসিন সরবরাহ আসায় আক্রান্তদের সেবা দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

কুড়িগ্রাম পৌরসভার মেয়র আব্দুল জলিল জানান, কুকুর নিধনে আইনগত বিধিনিষেধ থাকায় আমাদের কিছুই করার নেই। তারপরও বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে ব্যাপারে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।

নাজমুল/এএম/এমএস