আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে সরগরম টাঙ্গাইলে ঐতিহ্যবাহী তাঁতপল্লী। জেলার তাঁতপল্লী গুলোতে সর্বত্রই চলছে বাহারি ডিজাইনের কাপড় বুনানোর ধুম। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত শাড়ি উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। সংসারে বাড়তি আয় যোগ করতে কাজ করছেন নারীরাও।
কিন্তু বেচাকেনা ভালো হলেও দুশ্চিন্তা আর হতাশা পিছু ছাড়ছে না তাঁতিদের। একদিকে দেশীয় মার্কেটগুলোতে ভারতীয় শাড়ির অবাধ প্রবেশ, সুতার দাম বৃদ্ধি, তাঁত মেশিনের দাপট ও শাড়ির প্রতি নারীদের অনিহা অপরদিকে এ শিল্পকে বাঁচাতে সরকারি উদ্যোগের অভাবই তাঁতিদের এ দুশ্চিন্তার কারণ।
এরপরও সবকিছু ছাপিয়ে আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল সদর ও দেলদুয়ার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে তৈরি হচ্ছে মনোমুগ্ধকর তাঁতের শাড়ি। এবারের ঈদের আকর্ষণ হচ্ছে, হাইব্রিট, সুতি ও সিল্ক জামদানি, বালুচুরি, ধানসিঁড়ি, আনারকলি, গ্যাস, ডেঙ্গু, শপসিল্ক, রেশম, তশর, ফোরফ্লাই, কাতান, শাপাইরা, একতারি দোতারি, মনপুরা, সুতি কুচি ইত্যাদি। ঈদে এসব শাড়ি ক্রেতাদের নজর কাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
তাঁত মালিক মমিনুর রহমান বলেন, নিম্নমানের ও সস্তা দামের ভারতীয় চাকচিক্যপূর্ণ শাড়িগুলো দেশীয় বাজারে প্রবেশ করায় আমাদের অনেক ভালো মানের শাড়ি মার খাচ্ছে। গত দুই যুগ ধরে বেড়েই চলেছে সুতার দাম। পাওয়ারলোম মেশিনে চাহিদার চেয়েও বেশি শাড়ি উৎপাদন হচ্ছে। আর অন্যদিকে নারীরা এখন তাদের বাঙালিয়ানা হারিয়ে থ্রি-পিসসহ নানা আধুনিক পোশাক পরছেন। নারীদের শাড়ির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সরকারের উৎসাহমূলক কোনো পদক্ষেপ নেই। যার ফলে নানা কারণেই আমাদের শাড়ি ব্যবসা মূলত ঈদনির্ভর হয়ে পড়েছে।
‘মায়ের স্মৃতী শাড়ি ভূবন’র সত্ত্বাধীকারি ফরিদ বিন মুসলিম জানান, সম্প্রতি তাঁত শিল্পকে টাঙ্গাইল জেলার ব্র্যান্ডিং ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তাঁত শিল্প ক্রমেই চলে যাচ্ছে বিত্তবানদের হাতে। স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। আর পেলেও থাকছে নানান জটিলতা। গত এক যুগে কয়েক হাজার তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের প্রতি তাঁতিদের সমস্যা সমাধানের জন্য আহ্বান জানান এই ব্যবসায়ী।
এ প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বেসিক সেন্টার টাঙ্গাইল জেলা লিয়াজু অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, আগের চেয়ে তাঁতের সংখ্যা কমে গেছে। তাঁতিদের সমস্যাগুলো মূলত দীর্ঘদিনের। তাদের সমস্যা সমাধানে সরকার চেষ্টা করছে। টাঙ্গাইল সেন্টারের অধীনে ৬টি উপজেলা রয়েছে। গত ১১ নভেম্বরে তাঁতিদের সমস্যা নিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব সমিতির লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় সমিতি ওয়্যারি সুতার উপর ৫ শতাংশ যে ইমপোর্ট ট্যাক্স আছে সরকার তা মওকুফ করে দিয়েছে। ১৯৯৬ সালের আইনে প্রান্তিক তাঁতিদের ১০ হাজার টাকা ঋণ দেয়ার যে আইন রয়েছে তারও পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/আরআইপি