দেশজুড়ে

ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ সেই ৮ ব্যক্তি উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীতে শুক্রবার গভীর রাতে তীব্র স্রোতে ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলার ডুবে নিখোঁজ হওয়া আট ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার কমলনগর উপজেলার লধুয়া ও বাতিরখাল এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে মাছ শিকারী জেলেরা।উদ্ধারকৃতরা হলেন ভোলার দৌলতখাঁন উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর এলাকার মফিজুল হকের ছেলে মো. ছালাহ উদ্দিন (৩৩) ও তার ছোট ভাই মো. হাবিব (২২), রফিকুল ইসলামের ছেলে আল আমিন রাসেলসহ নয়জন। অন্যদের তাৎক্ষণিকক পরিচয় জানা যায়নি। এর আগে শুক্রবার রাতে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার লঞ্চঘাট এলাকার মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবিতে আটজন নিখোঁজ হন।স্থানীয়রা জানান, শনিবার ভোরে মেঘনা নদীর কমলনগরের লধুয়া মাছঘাট এলাকা থেকে স্থানীয় জেলে শাহাজান মাঝি আল আমিন রাসেলকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থানীয় টিটু মাঝিসহ কয়েকজন একই উপজেলার বাতিরখাল এলাকার নদী থেকে নিখোঁজ আটজনকে উদ্ধার করে।উদ্ধার হওয়া আল আমিন জানান, তার দাদী নুরভানু বেগমের মৃত্যুর খবর শুনে চাচাতো ভাই ছালাহ উদ্দিন ও হাবিবসহ শুক্রবার সকালে তারা ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। বিকেলে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার লঞ্চঘাটে লঞ্চ না পেয়ে দৌলতখাঁন এলাকার তিন যাত্রীসহ তারা ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলার ভাড়া করেন।সন্ধ্যায় ট্রলারটি দৌলতখাঁনের উদ্দেশে ছেড়ে আসলে ঘাটের অদূরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে একটি ডুবোচরে আটকা পড়ে। পরে রাত ১২টার দিকে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হলে ট্রলারটি দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে গেলে ট্রলারের তিন ব্যক্তিসহ তারা ছয় যাত্রী নদীতে ডুবে যান। শনিবার দুপুরে জ্ঞান ফেরে তার। শনিবার রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় নিখোঁজ  আটজনের উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আল আমিন।লধুয়া বাজারের পল্লী চিকিৎসক সামছুল আলম জানান, আল আমিনকে উদ্ধার করার পর তার শরীরে একটি অংশ কেটে যাওয়ায় ছয়টি সেলাই করা হয়েছে। তাকে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেন। উদ্ধারকৃত অপরদেরও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।এ ব্যাপারে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। পরে উদ্ধারের বিষয়টি তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন।কাজল কায়েস/বিএ