দেশজুড়ে

হত্যার হুমকিতে জিডি করলেন এমপি রিমি

দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমিকে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনায় গাজীপুরের কাপাসিয়া থানায় জিডি করা হয়েছে।

রোববার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রধান বাদী হয়ে কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লাসহ ১৬ জনের নামে এ জিডি করেন।

সিমিন হোসেন রিমিকে তারই ফুফাতো ভাই আলম আহমেদ হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে মামাতো ফুফাতো ভাই-বোনের মধ্যে বিরোধ যেন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

এ ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও কৃষক লীগের দুটি পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, সাংবাদিক সম্মেলনে পরস্পরের বিরুদ্ধে বক্তব্য, থানায় অভিযোগ দায়ের, সভা সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি, হামলা, পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা আলম সরকার কাপাসিয়ার দক্ষিণগাঁও গ্রামের নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এতে তিনি স্থানীয় এমপি সিমিন হোসেন রিমিকে হত্যা এবং কাপাসিয়া থেকে এমপি রিমিকে বিতাড়িত করার হুমকি দেন। ঈদের পর এমপি রিমিকে ও রিমির সঙ্গে থাকা আওয়ামী লীগের লোকজনকে সময় সুযোগমতো শায়েস্তা করবে বলে হুমকি দেন।

জিডিতে কৃষক লীগের উপদেষ্টা আলম সরকার (৫৩), কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা (৬২), উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আইন উদ্দিন (৬৫), সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম বাবলু (৫০), যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুল হক চৌধুরী আইয়ুব (৪৫), কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সদস্য কনকসহ (৪৫) অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে কৃষক লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম বাবলু বাদী হয়ে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৭১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কাপাসিয়া থানায় গত রোববার রাতে অপর একটি মামলা করেছেন।

প্রসঙ্গত, কাপাসিয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা সমর্থিত উপজেলা কৃষক লীগের দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে বিরোধ আছে।

গত ১৯ এপ্রিল কড়িহাতায় কৃষক লীগ ‘সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রচার’ সভার পাশে পাল্টা কর্মসূচি দেয় ছাত্রলীগ। পরে স্থানীয় প্রশাসন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে।

গত ৩১ মে বারিষাবতে কৃষক লীগের উন্নয়নমূলক প্রচার সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। পরে সেখানে পাল্টা স্থানীয় সংসদ সদস্যের সমর্থক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে মঞ্চ, তিনটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে এবং ইফতার ছিনিয়ে নেয়।

মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/এমএস