চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নে ভৈরব নদের উপর সাড়ে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর দু’পাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো কাজেই আসছে না সেতুটি। প্রায় দু’বছর আগে জনদুর্ভোগ লাঘবে ওই নদের উপর একটি সেতু নির্মাণ করেছে সরকার। কিন্তু সেতুর দু’পাশের সংযোগ সড়ক না থাকায় এই দুই গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার মনুষের ভোগান্তির অবসান হয়নি। সবচেয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে উপজেলা শহরে যাওয়া রোগী, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীদের।
জানা যায়, উপজেলার আলীপুর ও ঘোষনগর গ্রামের জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ভৈরব নদের উপরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকা ব্যয়ে ৪০ ফুট লম্বা সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালের জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে সেতুটি হস্তান্তর করেন। এরপরই সেতুর দু’পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সেতুটির দু’পাশের জমির মালিকরা তাদের জমি থেকে রাস্তা তৈরির জন্য মাটি কাটতে না দেয়ায় ওই সময় সংযোগ সড়ক তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
ঘোষনগর গ্রামের আলি আকবার জানান, সেতুর দু’পাশে রাস্তা না থাকার কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের পাশাপাশি অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচলে চরম অসুবিধা হচ্ছে। দু’টি গ্রামের বসবাসকারীদের ৩-৪ কিলোমিটার রাস্তা অতিরিক্ত ঘুরে শহরে যেতে হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন জানান, সেতু নির্মাণ শেষে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করার জন্য মাটি কাটতে গেলে সেতুর উত্তর পাশের জমির মালিকরা বাধা দেবার কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে রাস্তা নির্মাণের ব্যাপারে জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মাটি ভরাটের জন্যে সেতুটি কর্ম সৃজনের প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়েছে। আগামী এক-দু’মাসের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল জানান, এলাকাবাসীর দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় তার সুফল ভোগ করতে পারছেন না এলাকার লোকজন। এখন বোরো ধান কাটার মৌসুম চলছে। ধান কাটা শেষ হলে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে।
সালাউদ্দীন কাজল/আরএ/জেআইএম