টানা বৃষ্টি সঙ্গে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে মৌলভীবাজারের মনুনদীর ও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রভাহিত হচ্ছে। নদী উপচে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। এ দিকে ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে মৌলভীবাজারের ভারত সীমান্তবর্তী কমলঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, মনু নদী বিপদসীমার ৮০ সে.মি এবং ধলাই নদী বিপদসীমার ৩৮ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিম্নচাপের কারণে সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সারাদিন অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মঙ্গলবার ভোর থেকে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় কমলগঞ্জের ধলাই সেতু এলাকায় ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার অনেক উপর দিয়ে প্রাবহিত হয়।
কমলগঞ্জে কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষক আব্দুল আউয়াল জানান, এখানে ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ৩৮ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যেভাবে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে ও তাতে ধলাই নদীর পানি বেড়ে যাবে। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় কমলগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের করিমপুর গ্রাম এলাকায় ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে ফসলি জমিতে। দ্রুত গতিতে পানি বেড়েই চলেছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর, ইসলামপুর কমলগঞ্জ সদর ও আদমপুর ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন আহমদ বলেন, বাদে করিমপুর গ্রামে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে দ্রুত গতিতে পানি প্রবেশ করছে ফসলি জমিতে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে ২০ হেক্টর জমির রোপিত আইশ ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক জানান, উপজেলা প্রশাসন সতর্কতার সঙ্গে নজরদারী করছে। আর যেভাবে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে তাতে অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। তবে বৃষ্টি নেমে গেলে পানি দ্রুত নেমে যাবে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ নির্বাহী প্রকৌশলী নরেন্দ্র শংকর জানান, বৃষ্টি না থামলে পানি আরও বাড়তে পারে। আমরা সব দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছি।
রিপন দে/আরএ/এমএস