আগামী ২৬ জুন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের স্নায়ুচাপ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে প্রধান দুই মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের মো. জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা প্রতিদিন ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিজ নিজ দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতারাও বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ৫৭টি ওয়ার্ডে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ফুরফুরে আছেন। গাজীপুরে আওয়ামী লীগ এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার পক্ষে মাঠে নেমেছে। তাদের মধ্যে পুলিশি গ্রেফতার আতঙ্ক ও ভয় নেই।
পক্ষান্তরে নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করে গ্রেফতার আতঙ্ক ও ভয়ভীতি। আর ভয়কে জয় করে সামনে এগিয়ে যেতে চাচ্ছে বিএনপি। ঈদের পর দিন থেকে গাজীপুরে পুলিশের অভিযানের মুখে রাতে পালিয়ে থাকছে নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে ১৭ জুন কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি নেতা শওকত হোসেন সরকারকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
তিনি বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্ত হন। ১৮ জুন গাজীপুর সিটির কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় বিএনপির অন্তত ১০ নেতাকর্মীকে। শুক্রবার বিকেলে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বশির আহমেদ বাচ্চুকে। এসব ঘটনার পর থেকে আতঙ্ক ও ভয়-ভীতি নিয়ে ধানের শীষের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। গাজীপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শিল্পপতি মো. সোহরাব উদ্দিন জানান, বিগত ২০১৪ সাল থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে গাজীপুরে বিএনপির শতশত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এসব মামলায় নেতার্মীরা জামিনে থাকলেও পুলিশ নানা অভিযোগে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। অনেককে গ্রেফতারের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এতে প্রচারণাকালে নেতাকর্মীদের মাঝে ভয়ভীতি কাজ করছে। তারপরও আমরা বসে নেই আমাদের উপর অন্যায়ের বিচার নগরীর জনগণের কাছে দিয়েছি। নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে এই অন্যায়ের বিচার করবে। তিনি জানান, আমরা ভয়কে জয় করে সামনে এগিয়ে যাবো। আমিনুল ইসলাম/এমএএস/পিআর