লঞ্চঘাট নেই। নেই কোনো পন্টুন কিংবা যাত্রী ছাউনি। তবুও নদীর কূলে ভিড়ছে লঞ্চ। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে একাকার। যে-যেভাবে পারছেন ফিরছেন গন্তব্যে।
নাড়ির টানে পিরোজপুরে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের পদে পদে দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। বাস-লঞ্চ সর্বত্রই অগ্রিম টিকিট নিয়ে নেয়ায় চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
গতকাল শুক্রবার ও শনিবার বিকেলে জেলার হুলারহাট, বেকুটিয়া, তুষখালী, বড় মাছুয়া ভান্ডারিয়া ও কাউখালীসহ বেশ কয়েকটি লঞ্চঘাটে গিয়ে যাত্রীদের এমন দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে শনিবার বিকেল ৫টায় সদর উপজেলার বেকুটিয়া ফেরিঘাট ও হুলারহাট লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ঘাটে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। কেউ লাফিয়ে আবার কেউ ঝুলে যে যেভাবে পারছে লঞ্চে উঠছে। কোনোমতে লঞ্চের ভেতরে পা রাখতে পারলেই যেন স্বস্তি। এর মধ্যে বেকুটিয়া ফেরিঘাট থেকে ঢাকাগামী পূবালী-৭ ও মানিক-১ লঞ্চ ধারণক্ষমতার তিন থেকে চারগুণ বেশি যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যাত্রা করেছে।
এদিকে, হুলারহাট লঞ্চঘাট থেকে টিপু-৬, ফারহান-৯, রাজদূত-৭, মর্নিংসান-৫ ও মহারাজ-৭ লঞ্চ ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এসব লঞ্চের ছাদ পর্যন্ত তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। অনেকেই লঞ্চ না পেয়ে ঘাটে অপেক্ষা করছেন। আবার কেউ কেউ সড়কপথে গন্তব্যে গেছেন। কেউ কেউ বৃষ্টিতে ভিজে একাকার।
লঞ্চযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি লঞ্চের কেবিনের ভাড়া নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে বুকিং দেয়া হয়েছে। ডেকের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১০০ টাকা বেশি।
লঞ্চঘাটের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা হান্নান ফকির ও সোহাগ তালুকদার বলেন, ঈদের কারণে লঞ্চ ভাড়া বেড়েছে। ডেকের ভাড়া বেড়েছে ১০০ টাকা। কেবিনের ভাড়াও বেড়েছে। তবে আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে আগের ভাড়ায় টিকিট দেয়া হবে।
পিরোজপুর লঞ্চঘাটের ইজারাদার মঞ্জু তালুকদার জানান, হুলারহাট, বেকুটিয়া, তুষখালী ঘাটে পন্টুন ফেটে যাওয়ায় যাত্রীদের ওঠানামায় সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া কয়েক স্থানে লঞ্চের ঘাট নেই। যে যেখানে পারছে লঞ্চ ভিড়াচ্ছে। পন্টুন সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যাত্রী চাপ বেশি। আগামী তিন-চারদিনের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
হাসান মামুন/এএম/আরআইপি