ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকার ১৬টি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আটকে আছে পানি ও কাদামাটি। ঈদের ছুটি শেষে পাঠদান শুরু হলেও কাদা-পানির কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই।
এদিকে, উপজেলার ১৫ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে ঈদ উদযাপন করলেও এখনও ফিরতে পারেনি ঘর-বাড়িতে। রাস্তা-ঘাট থেকে পানি কমলেও বাড়ি ও আঙিনায় এখনও থইথই করছে পানি। রান্না করতে পারছে না গৃহিণীরা। বাইর থেকে এনে খেতে হচ্ছে তাদের।
টানা বর্ষণ ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে গত ১২ জুন মুহুরী নদীর তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। পরবর্তীতে ফুলগাজী উপজেলার ৮টি স্থানে ও পার্শ্ববর্তী পরশুরাম উপজেলার ১০টি স্থান ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে দুই উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ঘর-বাড়ি, স্কুল কলেজ ও মাদরাসায় পানি প্রবেশ করে।
উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৬টি স্কুলের মধ্যে দক্ষিণ দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুলটিতে পাঠদান শুরু হওয়ার একদিন আগে ধোয়ামোছার কাজ করছে। অধিকাংশ স্কুলগুলো পানি আর কাদামাটিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
এই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি নরুল আমীন জানান, স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি কম। এখনও রাস্তা-ঘাট থেকে পানি সরেনি। যার কারণে উপস্থিতি কম।
একই উপজেলার মধ্যম ধনিকুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান জানান, স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি একেবারেই কম। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে কাদা-পানির কারণে শিশুরা স্কুলে আসতে পারছে না।
এদিকে পরশুরাম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ১৮ গ্রামের স্কুলগুলো থেকে পানি সরে গেছে। উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি হয়নি। পাঠদান স্বাভাবিক গতিতে চলছে।
দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অধিকাংশ পরিবার এখনও বাড়ি ফিরতে পারেনি। ঘরে তালা দিয়ে রয়েছে অন্যত্র। গৃহিণীরা শত চেষ্টা করেও চুলায় আগুন ধরাতে পারছে না। বাইরের শুকনা খাবার খেয়ে দিন পার করছে তারা।
একই গ্রামের হাজি রহমত উল্যাহ জানান, ফুলগাজীর বন্যাদুর্গত ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি তারা ত্রাণ চায় না, বাঁধের স্থায়ী মেরামত চায়। সরকার এ ব্যাপারে দৃষ্টি দেবেন আশা করেন তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কোহিনুর আলম জানান, ফুলগাজী উপজেলায় ৮টি স্থানে এবং পরশুরাম উপজেলা ১০টি স্থানে ভাঙ দেখা দেয়ায় এখানকার বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে যায়। ঈদের আগে পানি অনেকটা সরে গেলেও জনজীবন স্বাভাবিক হয়নি।
এদিকে ফুলগাজী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা জানিয়েছেন, ফুলগাজীর ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোতে কীভাবে পাঠদান স্বাভাবিক করা যায় সেটি দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টিম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এতে করে ভালো একটি সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এএম/জেআইএম