দেশজুড়ে

ফেনীতে স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় আটক ১

ফেনীর সোনাগাজীতে স্কুল ছাত্রী আছমা আক্তার শোভা হত্যার ঘটনায় সোহেল নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতেই পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

পুলিশ জানায়, রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার চরদরবেশ ইউপির সেনেরখিল গ্রামে আনোয়ার মিয়ার বাড়ীর মোহাম্মদ দুলালের আছমা আক্তার শোভার পার্শ্ববর্র্তী নানার বাড়ীতে যায়। দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পাশের একটি পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত আছমা আক্তার শোভার স্থানীয় মঙ্গলকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। পুলিশ রাতেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই গ্রামের জাহাঙ্গির হোসেনের ছেলে সোহেলকে আটক করে।

স্থানীয়রা জানায়, উদ্ধারের সময় তার শরীরে কোনো জামা-কাপড় ছিলোনা এবং শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তার মুখ দিয়ে ফেনা ও নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিলো। তাকে টেনে নিয়ে যে পুকুরে ফেলানো হয়েছে ঘটনাস্থলে তার চিহ্ন দেখা গেছে।

নিহতের বড় বোন আয়েশা আক্তার জানান, নানার ঘর থেকে ফেরার সময় তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে আমরা তার চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পারিনি।

এ দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুনায়েত কাউছার, ডিএসবির সহকারী পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, সোনাগাজী মডেল থানার ওসি তদন্ত সুজন হালদার, সেকেন্ড অফিসার মোস্তাক আহম্মদ। তারা নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্তনা দিয়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুনায়েত কাউছার জানান, এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডের পূর্বে কোনো প্রকার যৌন নির্যাতন করা হয়েছিলো কিনা ময়না তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বলা যাবে।

আরএ/আরআইপি