দেশজুড়ে

কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া রুটে লঞ্চ বন্ধ, ফেরিতে যাত্রীদের চাপ

বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড বাতাসে পদ্মা নদী উত্তাল হয়ে উঠায় কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে এ নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

বিকল্প বাহন হিসেবে ঢাকাগামী যাত্রীরা ঝুঁকছে ফেরিতে। যাত্রী চাপ বাড়ায় দেখা দিয়েছে ফেরি সংকট। যানবাহনের পরিবর্তে যাত্রীদের পার করছে ফেরিগুলো। বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ রুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চালু হয়নি।

যাত্রীদের চাপে কোনোভাবে ফেরিতে পরিবহন তোলা যাচ্ছে না। শিমুলিয়া ঘাট থেকে পরিবহন নিয়ে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে আসামাত্রই যাত্রীরা ফেরিতে উঠে ভিড় জমান। ফলে যানবাহনের পরিবর্তে যাত্রীবোঝাই করে কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে ফেরিগুলো।

এর আগে সকালে ঢেউয়ের আঘাতে শিমুলিয়া থেকে কাঁঠালবাড়িতে আসার পথে মাঝপদ্মায় ১৮ জন যাত্রী নিয়ে একটি স্পিডবোট ডুবে যায়। এতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। কাঁঠালবাড়ি ঘাট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, ডুবে যাওয়া স্পিডবোটের সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ফেরিঘাটে লঞ্চের অপেক্ষায় থাকা বরিশালের যাত্রী নওরিন খানম বলেন, সকাল সাড়ে ৯টায় কাঁঠালবাড়ি ঘাটে এসে পৌঁছাই। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সকাল থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তাই লঞ্চের অপেক্ষায় বসে আসি।

বিআইডব্লিউটিএ’র কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটের দায়িত্বরত সহকারী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, বুধবার সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়া দেখা দেয়। সকালে মাওয়া প্রান্তে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে একটি স্পিডবোট ডুবে যায়। ওই বোটে ১৮ যাত্রী ছিলেন। দ্রুত সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সোয়া ৯টার দিকে এ রুটের লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বিকেল ৩টা পর্যন্ত আবহাওয়া একই অবস্থা রয়েছে। বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল শুরু হবে। এই রুটে ৮৭টি লঞ্চ দুই শতাধিক স্পিডবোট এবং ১৯টি ফেরি চলাচল করছে। বর্তমানে ফেরি দিয়ে পারাপার হচ্ছে যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিএ’র কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের সহকারী ম্যানেজার রুহুল আমিন জানান, সকাল থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকা কারণে ফেরিতে যাত্রী পার করতে হচ্ছে। ফলে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রী চাপ সামাল দিতে শিমুলিয়া প্রান্ত থেকে ফেরি এনে কাঁঠালবাড়ির যাত্রী পার করা হচ্ছে।

এ কে এম নাসিরুল হক/এএম/জেআইএম