বগুড়ায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কমিটির অফিস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বিএনপির কর্মীরা। রোববার ভোররাতের কোনো এক সময় শহরের ২০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নারুলী খন্দকারপাড়া আঞ্চলিক কমিটির অফিসে আগুন দেয়ার এই ঘটনা ঘটে। দুপুরে এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির ২০-৩০ জন নেতাকর্মীর নামে থানায় মামলা দেয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেয়ার জের ধরে আওয়ামী লীগ অফিসে এই আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে ২০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের নারুলী খন্দকারপাড়া আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি গোলাম রব্বানী খান নাদির জানান, শনিবার রাত ২টা পর্যন্ত দলীয় অফিসে নেতাকর্মীরা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখেছেন। নেতাকর্মীরা বাড়ি চলে যাওয়ার পর ভোররাতে অফিসে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে অফিসে রাখা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছাড়াও টেলিভিশন আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন দেয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, শুক্রবার খন্দকার পাড়ার অটোটেম্পু চালক বাবু মিয়ার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিকেলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেয়। এছাড়াও দুইজনকে আটক করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি কর্মী শাহ আলম, শাহজামাল, রিগ্যান, বুলবুল, ফরহাদ শুক্রবার থেকেই বলে বেড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ অফিসে যারা বসে থাকে তারাই ইউএনওকে ডেকে বিয়ে বন্ধ করেছে। নেতাকর্মীদেরকে উচ্ছেদ করতেই পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন দেয়া হয়েছে।
বগুড়া শহরের নারুলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তারিকুল ইসলাম জানান, বাল্য বিয়ে বন্ধের জের ধরেই আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির কেউ বক্তব্য দেননি। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
লিমন বাসার/এমএএস/পিআর