দেশজুড়ে

বেহাল মহাসড়ক পকেট কাটছে বন্দর ব্যবসায়ীদের

দেশের অন্যতম বৃহৎ ও রফতানিমুখী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এ বন্দরে রফতানির হার ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে যে কোনো মুহূর্তে ভারতের আগরতলায় পণ্য রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আখাউড়া স্থলবন্দরে রফতানি বাণিজ্যের হালচাল নিয়ে জাগো নিউজের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে ৩য় পর্ব।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলার সঙ্গে অন্য রাজ্যগুলোর রেল ও সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পর থেকে সেখানকার ব্যবসায়ীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এতে আখাউড়া স্থলবন্দরে এক প্রকার অচলাবস্থা বিরাজ করছে। তার উপর কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল দশা যেন মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্দরের ব্যবসায়ীদের জন্য। বেহাল সড়ক দিয়ে পণ্য পরিবহনে আগের চেয়ে খরচ বেড়েছে ব্যবসায়ীদের।

আরও পড়ুন: আগরতলার সচল রেলে অচল আখাউড়া স্থলবন্দর

স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগরতলায় রফতানির জন্য সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকযোগে পণ্য নিয়ে আসেন তারা। ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে এসব পণ্যবোঝাই ট্রাক আখাউড়া স্থলবন্দরে আসে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক তুলনামূলক ভালো হলেও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-বিশ্বরোড মোড় থেকে আখাউড়ার তন্তর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার অংশ এতোটাই বেহাল যে ট্রাকচালকরা আসতে রাজি হন না। আর যারা আসেন তারাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভাড়া নেন। প্রায়ই বেহাল অংশে বিকল হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পণ্য বোঝাই ট্রাকগুলো। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে পণ্য রফতানি করতে না পেরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সরাইল-বিশ্বরোড মোড় থেকে সুলতানপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত অংশ একেবারেই নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় পিচ উঠে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাঝে-মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ বালু ও ইট-সুরকি দিয়ে গর্ত ভরাট করলেও যানবাহনের চাপে তা দু-একদিনের বেশি টিকছে না। এছাড়া স্থলবন্দরে ঢোকার পথে আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক মহাসড়কের জাজিরা খালের ওপর একটি ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু রয়েছে। ওই সেতু দিয়ে দিনের পর দিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রাকগুলো। এ সেতুটি পুনরায় নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কয়েকজন ট্রাকচালক জানান, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। এতে করে ট্রাকের মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। তাই স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হচ্ছে তাদের। মহাসড়কটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার না করা হলে পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেবেন বলেও জানান তারা।

আরও পড়ুন: বন্ধ হয়ে যেতে পারে আগরতলায় পণ্য রফতানি কার্যক্রম

আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও হাসান এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাসিবুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, আগরতলায় রেল যোগাযোগ চালু হওয়ার পর থেকে আমাদের রফতানি কমে গেছে। সেখানকার ব্যবসায়ীরা এখন তাদের অন্য রাজ্যগুলো থেকে কম খরচে ট্রেনে করে মালামাল নিয়ে আসে। ছোট ব্যবসায়ীদের কারণে এখনো স্বল্প হারে পণ্য রফতানি চলছে। তবে বেহাল মহাসড়কের কারণে পণ্য পরিবহনে আমাদের খরচ বাড়ছে। অথচ আমরা পণ্যগুলো বেশি দামে রফতানি করতে পারছি না। জরুরি ভিত্তিতে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক সংস্কার ও জাজিরা খালের বেইলি সেতুটি নতুন করে নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু এহতেশাম রাশেদ জাগো নিউজকে বলেন, বর্ষা মৌসুমের কারণে আমরা মহাসড়কের বেহাল অংশের সংস্কার কাজ শেষ করতে পারছি না। আশা করছি আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতো পারবো।

আরএআর/পিআর