বর্ষার শুরুতেই ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙন দেখা দিয়েছে। দিন যত পার হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভাঙন ততই তীব্র আকার ধারণ করছে। ভাঙনে দিশেহারা মানুষগুলো নির্ঘুম রাত কাটালেও সরকারিভাবে এখনও কেউ পরিদর্শনে যায়নি বলে জানান ভাঙনকবলিত অঞ্চলের জনগণ। এ দিকে ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি। নদ পাড়ের বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কাজ করছেন। অন্যদিকে রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা, মসজিদসহ নদের ভাঙন হুমকির মুখে রয়েছে।
আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে গত এক সপ্তাহে চরমানাইর, চরনাছিরপুর ও ঢেউখালী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সপ্তাহ জুড়ে ভাঙনে উপজেলার তিন ইউনিয়নের ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রাস্তা নদীতে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সরকারিভাবে চরমানাইর ও ঢেউখালী দুই ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ তৈরির কাজ চললেও চলমান বর্ষায় তা বাধার মুখে পড়েছে।
চরনাসিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আক্কাচ আলী জানান, বাবর আলী মোল্যা কান্দি, মোল্যা কান্দি, মফিজ উদ্দিন হাজীর কান্দি, নাজির মাহমুদ হাজীর কান্দি, খলিফা কান্দি, জঙ্গী কান্দি এলাকা ভাঙনের মুখে পড়েছে।
চরমানাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী জানান, আদেল উদ্দিন মোল্যার কান্দি, চরমানাইর, গিয়াস উদ্দিন ফকির কান্দি, হাজারী হাজির কান্দি ভাঙন কবলিত। এছাড়াও ভাঙন হুমকির মুখে পড়েছে চর বন্দরখোলা ফাজিল মাদরাসা, চর বন্দরখোলা নাদেরীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি হাসপাতাল ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। নদের অব্যাহত ভাঙনে ফসলি জমি, গাছপালা এবং বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
ঢেউখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক বেপারী জানান, চরবলাশিয়া, মুন্সী গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ তাদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।
চরবলাশিয়া মোল্যা গ্রামের সোহানা বেগম বলেন, প্রতি বছরের মত এ বছরও ভাঙন দেখা দিয়েছে। জানি না ভিটেমাটি নিয়ে এ বছর থাকতে পারবো কিনা। ভয় হচ্ছে বর্ষার শুরুতেই ভাঙন শুরু হওয়ায়।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জোবায়ের রহমান রাশেদ জানান, সরেজমিনে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরএ/এমএস