দেশজুড়ে

লক্ষ্মীপুরে নলকূপ স্থাপন দরপত্রে কারসাজির অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের গভীর নলকূপ স্থাপন দরপত্রে কারসাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ নেতা তাজুল ইসলাম ভূঁইয়াকে ৬২৩টি নলকূপ স্থাপনের প্রায় সাড়ে চার কোটি কাজ পাইয়ে দিতে নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস গোপন আঁতাত করেছেন।

ওই কর্মকর্তা গোপন প্রাক্কলনের মূল্য তালিকা টাকার বিনিময়ে তাজুল ইসলামকে সরবরাহ করেছেন বলে রোববার কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে তারা ক্ষুব্ধ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অগ্রাধিকারমূলক গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্পের লক্ষ্মীপুরে গভীর নলকূপ স্থাপনের দরপত্র গত ১১ জুন আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৬৭, রামগতিতে ৮৯, কমলনগরে ৮৯ ও রামগঞ্জে ১৭৮টিসহ ৬২৩টি নলকূপ বরাদ্দ করা হয়।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন এটি ভূঁইয়া বিল্ডার্স ও চাঁদপুরের শামিম ট্রেডার্সের সঙ্গে যৌথ কাজটি পাইয়ে দিতে গোপন প্রাক্কলনের মূল্য তালিকা সরবরাহ করেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

অন্য ঠিকাদাররা দরপত্র সংগ্রহ করলেও বিষয়টি জানতে পেরে অনিশ্চয়তার কারণে কয়েকজন ছাড়া অন্যরা দাখিল করেননি। অপকৌশলের কারণে প্রতিটি নলকূপ ৭৩ হাজার টাকা দরে মোট ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকার ওই কাজটি পায় তাজুল ইসলামের সঙ্গে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া রায়পুরে ৮৯টি নলকূপ স্থাপনের কাজটি অন্য ঠিকাদার পায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার বাগবাড়ি ও ঝুমুর এলাকার তিনজন ঠিকাদার জানান, এই অফিসে তাজু সিন্ডিকেটের কারণে অন্য ঠিকাদাররা কাজ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী টাকা নিয়ে গোপন মূল্য তালিক তাকে সরবরাহ করেছেন। এমন গোপন আঁতাত করে তাকে কাজটি পাইয়ে দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমি নিয়মানুযায়ী কাজ পেয়েছি। অন্য ঠিকাদাররা কাজ না পাওয়ার কারণে আমার বিরুদ্ধে অপ-প্রচার করছেন।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস বলেন, কোনো ঠিকাদারের সঙ্গে আমার আঁতাত নেই। অন্য ঠিকাদাররা কাজ না পেয়ে এসব কথা বলছেন।

কাজল কায়েস/এএম/আরআইপি