দেশজুড়ে

বোর্ডের সিদ্ধান্ত উপেক্ষিত, বিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা

যশোর শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিজস্ব শিক্ষকদের তৈরি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিচ্ছে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের মাহফুজা খানম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়টি ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত চলতি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় নিজস্ব শিক্ষকদের করা প্রশ্নে এই পরীক্ষা নিচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে বাগেরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান।

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রধান শিক্ষকের কাছে অনলাইনে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। কিন্তু আমাদের শিক্ষকরা সেই প্রশ্নে পরীক্ষা না নিয়ে স্কুলে শিক্ষকদের তৈরি প্রশ্নে পরীক্ষা নিচ্ছেন। আমরা চাই অন্যান্য স্কুলে যেভাবে বোর্ডের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়, সেভাবে আমাদেরও পরীক্ষা নেয়া হোক।

নিজস্ব প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার কথা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যাম কুমার পাল বলেন, প্রধান শিক্ষক হাসিবুর রহমান মিয়া ছুটিতে রয়েছেন। তার নির্দেশে বিদ্যালয়ের খরচ কমাতে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া অনেক সময় ইন্টারনেটের ধীরগতি ও বোর্ডের সার্ভারে সমস্যা থাকার কারণে প্রশ্নপত্র নামাতে সমস্যা হয়।

তবে বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম ইন্টারনেটের ধীরগতি ও বোর্ডের সার্ভারে সমস্যার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করে স্যারদের কাছে দিয়েছি।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মাদ আলী বলেন, আমি অসুস্থ থাকায় পরীক্ষার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে পারিনি। তবে বিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নিতে হবে।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, শিক্ষকদের তৈরি প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক বোর্ডের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তারা মঙ্গলবার থেকে বোর্ডের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার কথা জানিয়েছেন। এর আগে কেন তারা নিজস্ব প্রশ্নে পরীক্ষা নিয়েছেন তার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

শওকত আলী বাবু/এএম/এমএস