দেশজুড়ে

ভাঙন আতঙ্কে কাটে নির্ঘুম রাত

বর্ষার শুরুতেই ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় পদ্মা নদী ও আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের।

যেকোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে তাদের বাড়িঘর। ফলে দিনরাত ভাঙন আতঙ্কে চলছে তাদের বাড়িঘর সরানোর কাজ। দেখে মনে হচ্ছে, নদী তাদের তাড়া করছে।

প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা ও মসজিদ। ভাঙন কবলে রয়েছে চরমানাইর ও চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম।

গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে চরনাছিরপুর, ঢেউখালী ও চরমানাইর কিছু স্থানে ব্যাপক ভাঙনে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে। ভাঙনে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ একর ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। এছাড়া দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ও চরনাছিরপুর ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান সদরপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জোবায়ের রহমান রাশেদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু এহসান মিয়া ও সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোফাজ্জেল হোসেন প্রমুখ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরনাছিরপুর ইউনিয়নের ছোটকোলপাড় জঙ্গীকান্দি এলাকায় কয়েক একর ফসলি জমি, শিমুলতুলী হালিম হাওলাদারকান্দি, চরমানাইর ইউনিয়নের গিয়াসউদ্দিন ফকিরকান্দি, আদেলদ্দিন মোল্যারকান্দি, চরমানাইর এবং ঢেউখালী ইউনিয়নের চরবলাশিয়া মাদরাসা ঘাটে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

এছাড়া প্রায় শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জোবায়ের রহমান রাশেদ বলেন, চরনাছিরপুর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে নদীগর্ভে বিলীন ৩৬টি পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। এছাড়া চরমানাইর ইউনিয়নের সচিব ৫৬টি পরিবারের তালিকা পাঠিয়েছেন। অসহায় পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সহায়তা পাঠানো হবে।

এএম/এমএস