দেশজুড়ে

আলফাডাঙ্গা পৌরসভায় মিলছে না নাগরিক সেবা

যাত্রা শুরুর আড়াই বছর পার হলেও ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার পৌর ভবন নির্মাণ করা হয়নি। নেই ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা। সবচেয়ে বড় সমস্যা ড্রেনেজ, সড়ক সংস্কার, জলাবদ্ধতা, পানি ও পয়োনিষ্কাশন।

পৌর কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রায় ১২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার যাত্রা শুরু হয়। ভোটার সংখ্যা ১১ হাজারের বেশি। পৌরসভাটি সদর ইউনিয়নের অধিকাংশ এবং গোপালপুর ও বুড়াইচ ইউনিয়নের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত। ‘গ’ শ্রেণির এই পৌরসভার নাগরিকেরা ১২ ধরনের সেবা পাওয়ার কথা। কিন্তু তার কিছুই পাচ্ছে না তারা।

গত ডিসেম্বরে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথম মেয়র পদে নির্বাচিত হন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সাইফার। মেয়র হওয়ার পর পৌরসভায় তেমন কোনো উগ্রগতি চোখে পড়েনি।

পৌরবাসীর অভিযোগ, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার তার পর থেকেই তাদেরকে দিতে হচ্ছে নিয়মিত পৌর কর। বর্ষার শুরুতেই জলাবদ্ধতায় নাকাল তারা। নেই পয়োনিস্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সড়ক বাতি নেই, উদ্যোগ নেই সড়ক সংস্কারের। একটু বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকে পানি। বাড়ি থেকে সড়কে বের হতে সমস্যায় পড়তে হয় তাদের।

পৌরসভার বাজার এলাকার একাধিক নাগরিক বলেন, জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধন, নাগরিক সনদপত্র, ব্যবসার ছাড়পত্র এ ধরনের সেবা ছাড়া তারা নির্ধারিত অনেক সেবাই পান না।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের প্রধান সড়কগুলোর সংস্কার হয়নি। অধিকাংশ সড়কই সরু। ফলে অল্প যানবাহন চলাচলেই যানজট লেগে থাকে। শহরে চৌরাস্তা থেকে উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয় পর্যন্ত আধা কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা আছে। এছাড়া পুরা শহরের কোথাও কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ফলে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই আলফাডাঙ্গা বাজার এলাকা, মালো পট্টি, কুন্ডু পাড়া, নিলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা, কুশুমদি, শ্রীরামপুর এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়। তখন ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি দোকান ও বাসায় ঢোকে। পৌরবাসীদের যাতায়াতের চরম সমস্যায় পড়তে হয়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য পড়ে আছে। এসব থেকে দুর্গন্ধ বের হয়ে পরিবেশ দূষণ করছে। পৌরসভার দুটি বর্জ্য অপসারণের ট্রাক থাকলেও তার ব্যবহার নেই।

পৌর এলাকার মালো পট্টির দূর্গা রাণী, নারায়ণ দাস, হাফিজ মন্ডলসহ বেশ কয়েকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকার মানুষ কষ্টের মধ্যে রয়েছে। অল্প বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোসহ অনেক কাজের জন্য প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়ছি। জানি না কবে এর থেকে মুক্তি পাব।

নিলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার রুবেল মোল্লা, করিম শেখসহ অনেকেই জানান, যারাই ভোটে দাঁড়ায় তারাই বলে জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান হবে। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পর আর কোনো কাজ হয় না। আমরা আসলেই বড় অসহায়। কেউ দেখার নেই। এরকম পরিবেশে বসবাস করা যায় না।

পৌরসভার সচিব মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলা পরিষদের একটি টিনশেড ওয়াল ঘরের পৌরসভার কাজ চলছে। জায়গার স্বল্পতায় দাফতরিক কাজকর্মের বিঘ্ন ঘটছে। পৌরসভার নির্বাচনের পর চাহিদা অনুযায়ী সরকারি বরাদ্দ এসেছে। আরও কিছু বরাদ্দ প্রাপ্তি প্রক্রিয়াধীন।

আলফাডাঙ্গা পৌর মেয়র সাইফুর রহমান বলেন, ৬ মাস হলো মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছি। পৌরসভার তহবিল খুব কম ছিল। যে বরাদ্দ পেয়েছি তা দিয়ে পৌরবাসীর সব সমস্যার সমাধান এখনই সম্ভব নয়, এ জন্য কয়েক মাস সময় লাগবে। পৌরভবন নির্মাণ, রাস্তাঘাট সংস্কার, বর্জ্য অপসারণ, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ পৌরসভার সব উন্নয়নকাজের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

এএম/আরআইপি