নওগাঁর বদলগাছীতে দলিল লেখক সমিতি ও সাব-রেজিস্ট্রারের অন্তর্কোন্দলে গত এক সপ্তাহ থেকে জমি রেজিস্ট্রি বন্ধ রয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা।
এদিকে গত ০৮ জুলাই থেকে দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধ থাকায় লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। বিষয়টি নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
দলিল লেখক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বদলগাছীতে দলিল লেখক সমিতির সদস্য ১৪০ জন। ইতোপূর্বে খতিয়ানের ফটোকপি দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। কিন্তু গত ০৩ জুলাইয়ের পর থেকে খতিয়ানের ফটোকপি দিয়ে আর দলিল রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে না।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের পাঁড়োরা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী মৃত আশেদা বেগমকে জীবিত দেখিয়ে ৩৫ শতক জমি আব্দুস সাত্তারকে রেজিস্ট্রি করে দেন বদলগাছীর দলিল লেখক হেলাল হোসেন। এরপর বিষয়টি প্রকাশ পেলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ওই অপরাধে চলতি বছরের ২৮ জুন ওই দলিল লেখকের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিলের পর দলিল রেজিস্ট্রি করতে দলিল লেখকদের প্রতি সঠিক কাগজপত্র দাখিলের জন্য বলা হয়। খতিয়ানের ফটোকপি ও হাতে লেখা খতিয়ান ইস্যু করে জমি রেজিস্ট্রি করা হবে না বলে একটা নোটিশ করে দলিল লেখকদের জানানো হয়। কিন্তু তারপরও দলিল লেখকরা ফটোকপি দিয়ে রেজিস্ট্রির জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গেলে সাব-রেজিস্ট্রার দলিল ফেরত দেন। এর জের ধরে দলিল লেখকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধর্মঘট শুরু করেন।
গত ০৮ জুলাই থেকে দলিল লেখকরা কোনো দলিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে না যাওয়ায় দলিল রেজিস্ট্রি হয়নি। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, যে নিয়ম অনুসারে দলিল রেজিস্ট্রি করা হতো সেটাতে সাব-রেজিস্ট্রার ভুল ধরছেন। দাখিলের নাম করে প্রতি দলিলে তিনি ১২শ টাকা নিয়ে থাকেন। অতিরিক্ত আরও ২০০ টাকা করে দাবি করছেন। আমরা দলিল লেখক সমিতি থেকে বাড়তি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সাব-রেজিস্ট্রার বিভিন্ন নিয়ম দেখিয়ে টাকা নেয়ার পায়তারা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে সাব-রেজিস্ট্রার পারভেজ খান বলেন, অফিসের সব কাজই চলমান আছে। তারা দলিল নিয়ে এলে যেকোনো সময়ই রেজিস্ট্রি করা যাবে। তবে আইন অনুযায়ী আমাদের সর্বশেষ রেকর্ডের মূলকপি দেখতে বলা হয়েছে। ফটোকপি দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করার কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আলী বেগ বলেন, আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।
আব্বাস আলী/এফএ/পিআর