ক্যাম্পাস

ইবিতে অডিও ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

ইসলামী বিশ্ববিদালয়ে (ইবি) নিয়োগ বাণিজ্যের চারটি অডিও ক্লিপ ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এ তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ।

জানা যায়, গত ১২ জুলাই অনুষ্ঠিত ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের নিয়োগ বোর্ডের প্রার্থী ফারজানা আক্তার ও তার স্বামী মামুনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল এবং ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদত হোসেন আজাদের সঙ্গে চাকরি প্রার্থীর কথপোকথনের অডিও ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রেজওয়ানুল ইসলাম এবং ইংরেজী বিভাগের প্রফেসর ড. এ এইচ এম আক্তারুল ইসলাম। ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ভিসির কাছে পেশ কারার জন্য বলা হয়েছে।

জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক ড. আযাদ ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক একই বাসায় থাকেন। তারা কিছুদিন আগে স্বপরিবারে ওমরা পালন করেছেন। এছাড়া কমিটির আরেক সদস্য ড. আক্তারুল ইসলাম তার (ড. আযাদ) বিভাগের সভাপতি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, এরকম বিতর্কিত কমিটি দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষভাবে করা উচিত।

জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে এক ছাত্রী হয়রানির ঘটনায় যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে সেখানেও সদস্য হিসেবে আছেন অভিযুক্ত ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক ড. আযাদ। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা মহলে একটিই প্রশ্ন, এই তদন্তকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি কতটুকু কার্যকর হবে?

প্রসঙ্গত, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার কথা বলে ওই দুই শিক্ষক চাকরি প্রার্থীর কাছে থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছে। নিয়োগ কনর্ফাম করতে না পেরে টাকা ফেরত দেন তারা। এ দিকে অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রাথমিক কোনো শাস্তি ছাড়াই তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে। এছাড়া তদন্ত কমিটি নিয়ে ক্যাম্পাসে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ফেরদাউসুর ইসলাম সোহাগ/আরএ/পিআর