দেশজুড়ে

দেখার যেন কেউ নেই

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ও কাওরাইদ ইউনিয়নকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে মাটিকাটা নদী। নদীতে সেতু না থাকায় দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার জনসাধারণের দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। বর্তমান সরকার জনদুর্ভোগ লাঘবে দুই ইউনিয়ন ও জনসাধারণের মধ্যে সহজতর যোগাযোগ স্থাপনের জন্য লাকচতল ও কাশিজুলী গ্রামের মাটিকাটা নদীর উপর সেতুর নির্মাণ শুরু হয়। কিন্তু তিন বছরেও শেষ হয়নি সেতুটির নির্মাণ কাজ। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিনিয়ত ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

বরমীর কাশিজুলি গ্রামের নৌকার মাঝি বাবুল মিয়া। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি নৌকায় মাটিকাটা নদীতে যাত্রী পারাপার করেন। একটি সেতুর অভাবে ওই এলাকার মানুষজন যে কত ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন তা তিনি সামনে থেকে দেখেছেন। সেতুটির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি জানান, দৈনিক বহু লোকজন তার নৌকায় পারাপার হয়। নৌকায় নদী পারাপারে অনেক সময় নষ্ট হয়। এতে বিদ্যালয় ও কলেজগামী শিক্ষার্থী, সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ রোগী আনা নেয়ার ক্ষেত্রে বিপাকে পড়তে হয় স্থানীয়সহ ওই সড়ক ধরে চলাচলকারী জনসাধারণদের। ভোগান্তি লাঘবে বর্তমান সরকার একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিন বছর হয়ে গেল, ঢিলেতাল কাজ করে ঠিকাদার শুধুই সময় অতিবাহিত করছেন, আমরা কবে যে এই সেতু ব্যবহার করতে পারবো তা এখন আর বলতে পারছি না।

বাবুল মিয়ার সঙ্গে একই সুর মিলিয়ে লাকচতল গ্রামের আব্দুস সাত্তার বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এই সরকারের মেয়াদেই সেতুটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে। কিন্তু তিন বছর হয়ে গেল কাজ যেন আর শেষ হতে চায় না। এক মাস কাজ করলে ছয়মাস থাকে কাজ বন্ধ। দেখারও যেন কেউ নেই। সেতু নিয়ে অনেকটা আশা নিরাশার দোলাচলে রয়েছি, তা আদৌ হবে কি-না।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, বরমী ও কাওরাইদ ইউনিয়নের কাশিজুলি ও লাকচতল গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল মাটিকাটা নদী। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার এই নদীতে ৭০ মিটার একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পরে দুই কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে বিগত ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে মেসার্স বাচ্চু এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কার্যাদেশের প্রথম মেয়াদ ২০১৬ সালের ২০ এপ্রিল থাকলেও পরে আরও দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। এদিকে, সিংহভাগ কাজ বাকি থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইতোমধ্যে বিল প্রদান করা হয়েছে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা।

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য ওমর ফারুক ঢালী জাগো নিউজকে জানান, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মাটিকাটা নদীর উপর সেতু নির্মাণের। কিন্তু সরকার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজের ধীরগতি চলছে। এতে এলাকার মানুষের যেমন ভোগান্তির প্রহর বাড়ছে তেমনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষোভও বাড়ছে। মাসের পর মাস সেতুর কাজ বন্ধ থাকলেও কেউ কোনো খবর নিচ্ছে না। সামনে জাতীয় নির্বাচন, এই বিষয়টি বিবেচনায় দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানাই।

বরমী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সদস্য জাকির হোসেন জানান, জনদুর্ভোগ লাঘবে এখানে একটি সেতুর অভাব সরকার পূরণ করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে এলাকাবাসীর সঠিক সময়ে সুফল পেতে দেরি হচ্ছে। মাসের পর মাস কাজ বন্ধ থাকলেও কেউ যেন কিছু বলছে না। বর্তমানে তিন বছরে এই সেতুর ৩০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাচ্চু এন্টারপ্রাইজের মালিক বাচ্চু মিয়া জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজ করতে বিলম্ব হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের সর্বশেষ মেয়াদ বর্ধিত করা আছে এই সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুজায়েত হোসেন জাগো নিউজকে জানান, নানা কারণে সেতুটির নির্মাণ কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।

শিহাব খান/এমএএস/এমএস