দেশজুড়ে

পুরো বিদ্যালয় চলছে একজন শিক্ষক দিয়ে

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার রাসড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক দিয়েই চলছে পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের শিশু থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ৬টি ক্লাস ওই শিক্ষককেই সামলাতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৪ সালে ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পাঁচজন শিক্ষকের পদ থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২ জন শিক্ষকের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। প্রথম অধিবেশনে শিশু শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ৩টি ক্লাস নেয়া হয়। দুইজন শিক্ষক দুইটি ক্লাসে গেলে একটি ক্লাস ফাঁকা থাকে। একইভাবে দ্বিতীয় অধিবেশনে তৃতীয় শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত তিনটি ক্লাস চলে। ফলে প্রতিদিন একটি করে ক্লাস শিক্ষক বিহীন থাকে।

কিন্তু গত শনিবার (২১ জুলাই) থেকে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুদুর রহমান প্রশিক্ষণে রয়েছেন। যার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিনকে দিয়েই। এ দুইজন শিক্ষকের মধ্যে নাজিম উদ্দিন ২০১৭ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে কর্মরত রয়েছেন।

৫ম শেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, দ্বিতীয় অধিবেশনে তৃতীয় থেকে ৫ম শ্রেণির তিনটি ক্লাস দুইজন শিক্ষককেই নিতে হয়। অনেক সময় স্যার পড়া দিয়ে আবার অন্য ক্লাসে চলে যান। এতে পড়া আদায় করার আগেই ক্লাসের সময় চলে যায়। সামনে সমাপনী পরীক্ষা, তেমনটা প্রস্তুতিও নেই তাদের। শিক্ষক কম থাকায় অনেকে অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সঙ্কট থাকলেও শিক্ষা অফিস কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। শিক্ষক সঙ্কটের কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের উপজেলা সদরে পড়ালেখা করাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের একমাত্র ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিন জানান, ২০১৪ সাল থেকে দুইজন শিক্ষককেই শিশু থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাসগুলো নিতে হচ্ছে। ক্লাস চলাকালে একটি করে ক্লাস ফাঁকা থাকে। অনেক সময় অফিসিয়াল কাজে শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। সেসময় একজন শিক্ষককেই সকল ক্লাস সামলাতে হয়।

এ প্রসঙ্গে বাসাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকলিমা চৌধুরী জানান, শিক্ষক সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই শিক্ষক পাওয়া যাবে।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/এমএস