দেশজুড়ে

মেয়রকে ঘেরাও, কার্যালয় ভাঙচুর করল পানিবন্দি এলাকাবাসী

শহরের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করায় মেয়রকে ঘেরাও করে দিনাজপুর পৌরসভা কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে পানিবন্দি পৌরবাসী।

রোববার পানিবন্দিরা দলবেঁধে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে পৌরসভা কার্যালয় ঘেরাও করে। এ সময় পৌরসভায় চেয়ার-টেবিল, ফুলের টব, দরজা-জানালা ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ পৌরবাসী। পাশাপাশি মেয়রের অপসারণ চেয়ে স্লোগান দেয় তারা। একপর্যায়ে পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে টেনেহিঁচড়ে কার্যালয় থেকে বের করার চেষ্টা করে বিক্ষুব্ধরা।

পৌরবাসী জানায়, পৌসভার ১, ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের গোলাপবাগ, লেবুর মোড়, পিটিআই মোড়, লেবুর মোড় হয়ে সরদারপাড়ার গিরিজা ক্যানেল পর্যন্ত পুরো এলাকার কয়েক হাজার মানুষ গত কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছেন। ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধে নাকাল অবস্থা পৌরবাসীর। তারপরও পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেননি পৌর মেয়র। গত ৭ বছর পৌর এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উপায় না পেয়ে পৌর কার্যালয় ও মেয়রকে ঘেরাও করেছেন পৌরবাসী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌরবাসী টেনেহিঁচড়ে কার্যালয় থেকে বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ ডাকেন মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। পরে পুলিশ এসে মেয়রকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে মেয়র বলে গেছেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবেন।

৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ বলেন, মেয়রকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে গেছে পুলিশ। এতে কেউ হতাহত হয়নি। সোমবারের মধ্যে কাজ শুরু না হলে বেলা ১১টায় আবার পৌরসভা কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম নিজের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে বলেন, সমস্যার কথা পৌরবাসী বলতে ও দাবি আদায়ে পৌরসভা ঘেরাও করতে পারে। কিন্তু আমাকে অবরুদ্ধ করে কার্যালয় ভাঙচুর করতে পারে না। আইন হাতে তুলে নিতে পারে না তারা। আইন সবার জন্য সমান। যারা ভাঙচুর করেছে তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পৌরসভা কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। পৌরসভা সরকারি সম্পদ। অপরাধীরা পার পাবে না।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/আরআইপি