দেশজুড়ে

সুজার রেখে যাওয়া দুই পদ নিয়ে কাড়াকাড়ি

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, খুলনা-৪ আসনের বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এসএম মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুর পরপরই খুলনায় জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন করে টানাপোড়ন শুরু হয়েছে। ‘একদিকে শূণ্য হয়ে যাওয়া আসনে মনোনয়ন, অন্যদিকে জেলা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব কে পাবেন? এই প্রশ্নও এখন খুলনার সর্বত্র ঘুরে ফিরছে। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে খুলনা-৪ আসনের এই টানাপোড় ছড়িয়ে পড়েছে খুলনা-৬ আসনেও।

জানা যায়, খুলনা-৪ আসন (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০১৪ সালে তিন দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা। ১৯৯১ সাল থেকে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বও পালন করে আসছিলেন তিনি। কিন্তু তার মৃত্যুতে এক সঙ্গে দুটি পদ শূণ্য হয়েছে। আর এই শূণ্য পদদের জন্য অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। একটি পদ নিয়ে সুজা পরিবারেও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র জানায়, এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা জীবিত থাকা অবস্থায় খুলনা-৪ আসন একপ্রকার তার জন্যই বরাদ্দ রেখেছিলো আওয়ামী লীগ। তার জীবদ্দশাতেই অনেকেই এই আসনে নির্বাচন করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য মোল্লা জালাল উদ্দিন, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক, তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান শরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল। এই তিন জনের মধ্যে নানা কারণে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন কামরুজ্জামান জামাল। একইভাবে আলোচনায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। তিনি খুলনা-৬ আসন এলাকায় (কয়রা-পাইকগাছা) এলাকায় বেশি সময় ব্যয় করার কারণে অনেকেরই ধারণা করেছেন ড.মশিউর কয়রা-পাইকগাছা এলাকা থেকেই নির্বাচন করবেন। কিন্তু সুজার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি একেবারেই পাল্টে গেছে। ড. মশিউরকেই এই আসনে মনোনয়ন দেয়া হবে এমন আলোচনা ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠেছে। তবে সুজার পরিবারের সদস্যরাও মনোনয়ন দৌড়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এর মধ্যে সুজার ছেলে এসএম খালেদিন রশিদী সুকর্ণর সম্ভাবনাই বেশি দেখছেন তারা। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারীও এই আসনে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় রাজনীতি করছি। খুলনা-৪ আসনে তিনি মনোনয়ন চাওয়ার পাশাপাশি আমি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করছি।

তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান শরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু বলেন, এমপি সুজা জীবিত থাকা অবস্থায়ও আমি মনোনয়ন চেয়েছি। তিনি এখন না থাকায় আমি জোরালোভাবেই এ আসনের মনোনয়ন দাবি করছি।

কামরুজ্জামান জামাল বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য আমি কাজ করে যাচ্ছি। সেই কারণে এই আসন থেকে আমিও মনোনয়ন দাবি করি।

এদিকে খুলনা-৪ আসনে ড. মশিউর রহমানকে মনোনয়ন দেয়া হলে খুলনা-৬ আসনে কাকে মনোনয়ন কাকে দেয়া হবে? এই প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে। খুলনার উপকূলবর্তী এই আসনে মনোনয়ন দাবি করছেন- বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ নুরুল হক, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকতারুজ্জামান বাবু এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক, বিএমএর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. শেখ শহীদ উল্লাহ।

তবে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, কারা এই দুই আসন থেকে মনোনয়ন পাবেন তা শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই জানেন।

আলমগীর হান্নান/আরএ/আরআইপি