কাজের মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কসহ তিন অভিযোগে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রমজান আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর শফিউল আলম সোমবার দুপুর ২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ।
যৌন নির্যাতনকারী তিন শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের বেঁধে দেয়া সাত দিনের পঞ্চম দিনে এই বরখাস্ত আদেশ দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত ২৬ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম নেতৃবৃন্দ ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাবিপ্রবির বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রমজান আলী, ফিসারিজ অনুষদের শিক্ষক মো. ফরিদুল্লাহ ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক দীপক কুমার সরকারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ রয়েছে।
এর মধ্যে সহকারী অধ্যাপক ড. রমজান আলীর বিরুদ্ধে রয়েছে তিনটি অভিযোগ। যার মধ্যে রয়েছে ছাত্রীকে মানসিক হয়রানি, ক্যাম্পাসে কাজের মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন ও রাজশাহী নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তার স্ত্রীর যৌতুকের মামলা। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত যৌন নির্যাতন বিরোধী সেল তদন্ত করে শিক্ষক রমজান আলীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সত্য বলে রিপোর্ট দেয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক রমজান আলীকে তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না জানতে চেয়ে চিঠি দেয়। কিন্তু তার দেয়া উত্তরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হতে পারেনি।
অপরদিকে গত ২৬ জুলাই সংবাদ মম্মেলন করে হাবিপ্রবির প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাত দিন সময় বেঁধে দেয়।
সোমবার সকালে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক রমজান আলীর বহিষ্কার চেয়ে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক রমজান আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ দেয়।
এমদাদুল হক মিলন/আরএআর/আরআইপি