দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সুরুজ মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে রবিউল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সুরুজ মিয়াকে হত্যার পর তিনি শরিফ শহিদ (৪২) নামে একজন নৈশ্য প্রহরী এবং তার শিশুপুত্র একরামুল হক (৩) শামীমকেও কুপিয়ে আহত করেছেন।
নিহত সুরুজ মিয়া বীরগঞ্জ জগদল হাটপুকুর জেলগেট এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। আর রবিউল ইসলাম একই এলাকার তারা মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিউল বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টায় শালবাগান জেলখানা গেট এলাকায় সুরুজ মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সকাল ৮টার দিকে রবিউলকে গণপিটুনি দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। বিক্ষুদ্ধ জনতা সকাল ৯টা পর্যন্ত দিনাজপুর পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী জানায়, ভোরে স্থানীয় মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার সময় প্রথমে হামলার শিকার হন ভ্যান চালক সুরুজ মিয়া। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। এরপর একই এলাকার একটি মুরগির ফার্মের নৈশ প্রহরি শহিদ এবং ৩ বছর বয়সি শিশুপুত্র একরামূল হক শামিমকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম। সকাল ৮টার দিকে রবিউল ইসলামকে কবিরাজহাট এলাকা থেকে আটক করে ঘটনাস্থলে ধরে আনা হয়। এরপর তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। সকাল ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দমকল কর্মীদের সহায়তায় আগুন নিভিয়ে রবিউলের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রবিউল ইসলাম সাম্প্রতিক সময়ে সুরুজ মিয়ার ভাতিজা চা দোকানদার বসির উদ্দিনকেও কুপিয়ে হত্যা করে। এছাড়াও আরও কয়েক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় সে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকিলা পারভীন বলেন, ঘটনার তদন্ত ছাড়া কিছুই পরিষ্কার করে বলা যাবে না।।
এদিকে ঘটনার পর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় দুটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এমদাদুল হক মিলন/এফএ/আরএআর/আরআইপি/জেআইএম