দেশজুড়ে

স্বর্ণের চেইনে প্রাণ গেল ছিনতাইকারীর

ভৈরবে ছিনতাই করা স্বর্ণের চেইন ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে সহযোগী ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাপ্পি নামের আরেক ছিনতাইকারীর।

সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে ভৈরবের মেঘনা রেলওয়ে সেতু সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাপ্পি ভৈরব পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকার মোবারক মিয়ার ছেলে।

এর আগে ওই ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে চার শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতরা হলো- উপজেলার জামালপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের মেয়ে জাফরিন বেগম (১৬), তার বড় ভাই আরিফুর রহমান (২০) একই গ্রামের গোলাপ মিয়ার মেয়ে তানজিনা বেগম (১৫) ও ছনছাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে সাগর (১৭)।

আহতদের মধ্যে গুরুতর আরিফুর রহমানকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে চার শিক্ষার্থী ভৈরবের মেঘনা পাড়ে বেড়াতে আসে। নদীর পাড়ে তারা ঘোরাঘুরির পর রেলওয়ের নির্মিত নতুন সেতু দেখতে রেললাইনের ওপরে উঠে।

এ সময় চার শিক্ষার্থীর গতিরোধ করে ৫-৬ জন ছিনতাইকারী। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের গলায় ছুরি ধরে স্বর্ণের চেইন ও তিনটি মোবাইল এবং ১২০০ টাকা নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। ছিনতাইকাজে বাধা দিয়ে শিক্ষার্থী আরিফুরকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

এরপর ছিনতাই করা স্বর্ণের চেইন কে নেবে এ নিয়ে ছিনতাইকারীদের মধ্য ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় ছিনতাইকারী বাপ্পি স্বর্ণের চেইনটি জোর করে নিতে চাইলে সহযোগী ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ছিনতাইকারী বাপ্পি।

আহত শিক্ষার্থী জাফরিন বেগম ও সাগর জানায়, আমরা ভৈরব মেঘনা পাড়ে ঘুরতে এসেছি। রেললাইনের ওপরে উঠলে ছিনতাইকারীরা আমাদের ওপর আক্রমণ করে সবকিছু নিয়ে পালিয়ে যায়।

ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশের ওসি আবদুল মজিদ বলেন, ছিনতাইয়ের মালামাল ভাগাভাগি করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে এক ছিনতাইকারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত বাপ্পি এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী। তার বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় দুটি মামলা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/পিআর