মা-বাবার সঙ্গে অভিমান করে রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক মাদরাসাছাত্রী। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার পুখুরিয়া শিয়ালকোল এলাকায় শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই পরিবহন শ্রমিক এ ঘটনা ঘটায়।
গণধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী ভূঞাপুর ফাজিল মাদরাসার ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত। তার বাড়ি গোবিন্দাসী ইউনিয়নের জিগাতলা গ্রামে। এ ঘটনায় রাতেই হিটলার (৩০) ও জাহিদ (৩২) নামের দুই ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হিটলার উপজেলার চরপাড়া ভারই গ্রামের কিসমত আলীর ছেলে ও জাহিদ একই গ্রামের আসাদ ওরফে আছার ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা শিকার করেছে তারা। স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে মা-বাবার সঙ্গে অভিমান করে ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ডে চলে আসেন ওই ছাত্রী। বাসস্ট্যান্ড থেকে এলেঙ্গা যাওয়ার জন্য সিএনজি অটোরিকশায় উঠতে গেলে দুই পরিবহন শ্রমিক হিটলার ও জাহিদ তার কাছে যায়। গন্তব্যের বিষয়টি জিজ্ঞাসা করে তাকে পৌঁছে দেয়ার আশ্বাস দেয়। বিষয়টি সন্দেহ হলে ওই ছাত্রী পায়ে হেঁটে শিয়ালকোলের দিকে রওনা দেন।
এ সময় পরিবহনের ওই দুই শ্রমিক জাহিদ ও হিটলার তার পিছু নেয়। পুখুরিয়া শিয়ালকোল কবিরের ইটভাটার কাছে পৌঁছল ছাত্রীর মুখ চেপে রাস্তার পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে গণধর্ষণ করে তারা। ছাত্রীর ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। পরে ঘটনাস্থল থেকে হিটলারকে আটক করে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার ও হিটলারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে হিটলারের দেয়া তথ্যমতে, অপর ধর্ষক জাহিদকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উভয়ই পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা শিকার করেছে। এ ঘটনায় মেয়ের বাবা বাদী হয়ে হিটলার ও জাহিদকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
ভূঞাপুর থানা পুলিশের ওসি মো. আব্দুছ ছালাম মিয়া বলেন, ঘটনার রাতেই দুই ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের কথা শিকার করেছে। ছাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেয়েটিকে পাঠানো হয়েছে।
আরিফ উর রহমান টগর/এএম/এমএস