কালোবাজারীর তত্ত্বাবধানে বিক্রি হচ্ছে ঢাকা-টাঙ্গাইল চলাচলরত বাস নিরালা সুপার সার্ভিসের টিকিট। এই কালোবাজারীর খপ্পরে পরে যাত্রীদের কাছ থেকে মাত্র ১৬০ টাকার টিকিট কিনতে হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। তবে ঈদ যাত্রা উপলক্ষে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাত্রী থাকলেও ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত গাড়ি খালি আসার অজুহাতে ও তেলের দাম উত্তোলনে ১৬০ টাকার ভাড়া ২৫০ টাকা নির্ধারণ করে জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতি।
দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় যাত্রীরা যাতায়াত শুরু করার সুযোগ নিয়ে কাউন্টার কর্তৃপক্ষ ও কালোবাজারীদের যোগসাজসে ওই টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। নিরালা বাস সার্ভিসে এ মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় সত্ত্বেও জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতি নীরব ভূমিকা পালন করায় হতাশ ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
যাত্রীদের অভিযোগ, গত শুক্রবার থেকে টাঙ্গাইল টু ঢাকার বাস ভাড়া ১৬০ টাকার পরিবর্তে ৩৫০ টাকা মূল্যে কালোবাজারীর মাধ্যমে কিনতে হচ্ছে। কাউন্টারে টিকিট চাইলেও টিকিট ফুরিয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখাছেন টিকিট বিক্রেতারা। একইভাবে এ সড়কের এসি বাস সার্ভিস সকাল সন্ধ্যা এবং সোনিয়ার ২৫০ টাকার টিকিট মূল্য ৪০০ টাকা এবং ঝটিকা ও ধলেশ্বরী বাস সার্ভিসের ১৩০ টাকার টিকিট মূল্য বৃদ্ধি করে ২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। তবে কালোবাজারীর মাধ্যমে ও অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রি স্বত্ত্বে কেন নীরব ভূমিকা পালন করছেন জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির কর্তারা।
টাঙ্গাইলের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিন মাসরুব জানান, টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় যাতায়াতরত বাসের টিকিট কালোবাজারী হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তারা অভিযান শুরু করেছেন। যদি কোনো কালোবাজারীকে স্ট্যান্ড চত্বরে পাওয়া যায় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও কালোবাজারে টিকিট বিক্রি বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন বর্ধিত ভাড়ায় টিকিট বিক্রির কথা স্বীকার করে জানান, টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাত্রী থাকলেও ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল ছেড়ে আসা বাসগুলোতে যাত্রী না থাকায় ও তেলের দাম সমন্বয় করতে ১৬০ টাকার টিকিট ২৫০ টাকা করা হয়েছে। তবে কালোবাজারীর মাধ্যমে ওই টিকিট ৩৫০ টাকায় বিক্রিতে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান তিনি। টিকিট নিয়ে কালোবাজারী ঠেকাতে সমিতি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।
আরিফ উর রহমান টগর/এমএএস/পিআর