দেশজুড়ে

যেখানেই নামেন ৩০ টাকা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীরা এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি না পেয়ে তারা বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করেছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পিকআপ ভ্যানসহ ট্রাকে করে গন্তব্যে ফেরার চেষ্টা করছেন।

বিশেষ করে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী, পাকুল্যা, ধল্যা, কুরণী, মির্জাপুর বাইপাস, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, দেওহাটা, সোহাগপাড়া, গোড়াই হাটুভাঙ্গা রোডসহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্ট্যান্ডে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে যানবাহন না পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলেও জানা গেছে।

এ উপজেলার ধল্যা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নাঈম উদ্দিন জানান, নারায়ণগঞ্জে কর্মরত তার ছেলে পাকুল্যা স্টেশনে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত গেছেন। সেখান থেকে অন্য গাড়িতে কর্মস্থলে পৌঁছান। একই কথা জানান কাওয়ালজানী গ্রামের আনোয়ার হোসেন। তিনিও একইভাবে তার কর্মস্থল ঢাকা পৌঁছেছেন।

বাইমহাটী গ্রামের কবির হোসেন জানান, পরিবহন সংকটের কারণে তিনি কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে কর্মস্থলে যেতে না পেরে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। যানবাহন সংকটের কারণে পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে পিকআপে উঠে বাড়ি যেতে দেখা গেছে।

উপজেলা সদরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেড় মাসের শিশু বাচ্চা আরফিনের মা রত্না বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তার বাচ্চাকে টিকা দিতে কুমুদিনী হাসপাতালে এসেছিলেন। বাসে উঠতে না পেরে ১০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা দিয়ে পিকআপে উঠেছেন।

সোহাগপাড়া এলাকার রাবেয়া বেগম (৫৫) বলেন, তিনি নিজেই ডাক্তার দেখাতে কুমুদিনী হাসপাতালে এসেছিলেন। বাড়ি যাওয়ার জন্য ৩০ টাকা ভাড়ায় পিকআপে উঠেছেন। পিকআপের চালকরা বলছেন গোড়াই পর্যন্ত গাড়ি যাবে, যেখানেই নামেন ৩০ টাকা ভাড়া দিতে হবে। বাধ্য হয়েই তিনি ৩০ টাকা ভাড়ায় পিকআপে উঠেন বলে জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মির্জাপুর বাস কোচ মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা জানান, বাসের সংকট থাকায় তারা যাত্রীদের কথা চিন্তা করে পিকআপের ব্যবস্থা করেছেন। তবে ভাড়া একটু বেশি নেয়া হচ্ছে বলে তারা জানান।

টাঙ্গাইল ও উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী প্রতিটি বাস পরিপূর্ণ হয়ে আসায় মহাসড়কের এ উপজেলার উল্লেখিত বাসস্ট্যান্ডগুলোতে না থামানোয় কর্মস্থলে ফিরতে তাদের এ বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানিয়েছেন।

এস এম এরশাদ/এমএএস/পিআর