দেশজুড়ে

রোগী রেখে ফেসবুকে ব্যস্ত ছিলেন ইন্টার্ন চিকিৎসক

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলায় আলাল সিকদার (৫৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোগী ভর্তি করার পর চিকিৎসক চিকিৎসা না দিয়ে কক্ষে বসে মুঠোফেনে ফেসবুক চালাচ্ছিলেন বলে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের সাকিম সিকদারের ছেলে আলাল সিকদার বুকে ব্যাথা নিয়ে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা হলেও তার কাছে কোনো ডাক্তার না আসায় স্বজনরা বার বার পাশেই চিকিৎসকের কক্ষে গিয়ে রোগী দেখতে বলেন। কিন্তু এ সময় ওই ওয়ার্ডে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ইশাসহ চারজন কানে ইয়ারফোন দিয়ে মুঠোফোনে ফেসবুক চালাচ্ছিলেন। পরে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে চিকিৎসক এসে রোগী দেখে ওষুধ লিখে দেন। ওষুধ নিয়ে আসার পর আলাল সিকদারকে চিকিৎসক একটি ইনজেকশন পুশ করার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

এ সময় স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে ওয়ার্ডের চিকিৎসক ও নার্স পালিয়ে যান। আলাল কোন সময় মারা গেছেন সে তথ্যও রোগী ফাইলে লেখা নেই বলে জানা গেছে।

ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, মারা যাওয়া রোগী ভর্তি হওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে কোনো চিকিৎসক তার কাছে আসেননি।

এছাড়া ওই ওয়ার্ডে কর্তব্যরত কয়েকজন নার্সও বলেছেন, চিকিৎসক পাশের কক্ষে থাকলেও যথাসময়ে রোগীর কাছে আসেননি।

আলাল সিকদারের ভাই আজগর সিকদার, ভাতিজা আল আমীন সিকদার ও ভাগ্নি ইতি আক্তার বলেন, আমরা রোগী ভর্তি করার পর বার বার চিকিৎসকের কাছে গিয়েছি। কিন্তু দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তারা রোগীর কাছে আসেননি। এ সময় তারা কানে ইয়ারফোন দিয়ে ফেসবুক চালাচ্ছিলেন আর বলছিলেন- সময় হলে যাবো।

কুমুদিনী হাসপাতালে পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ঘটনার বিষয়টি জানার পর চিকিৎসক, নার্স ও ওই ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগীদের নিয়ে জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। তাছাড়া নিহতের স্বজনদের হামলায় হাসপাতালের এক নিরাপত্তা প্রহরী আহত হয়েছেন। তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ডাক্তার ও নার্স পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, উত্তেজিত স্বজনদের ভয়ে তারা চলে গেছেন।

এস এম এরশাদ/আরএআর/পিআর