গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে লেগুনা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক মুক্ত হয়েছে। এতে করে একদিকে মহাসড়ক যেমন যানজটমুক্ত হয়েছে সেইসঙ্গে দুর্ভোগ কমে বদলে গেছে এই মহাসড়কের চিত্র।
মহাসড়ক থেকে অবৈধ লেগুনা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক এবং অটোরিকশা উঠে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এই মহাসড়কে যাতায়াতকারী যাত্রী ও স্থানীয়রা।
শনিবার থেকে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বেপরোয়া অবৈধ লেগুনা, ইজিবাইক, সিএনজি, অকেটারিকশা গাজীপুরের সড়ক-মহাসড়কে চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
গাজীপুরের সদ্য যোগদানকারী পুলিশ সুপার শাসসুন্নাহারের নির্দেশে এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ করার পর বদলে গেছে দৃশ্যপট। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত শনিবার ছিল না কোনো যানজট। একই চিত্র ছিল গাজীপুর-টাঙ্গাইল ও জয়দেবপুর-চান্দনা চৌরাস্তা সড়কের। এমনকি নিত্যদিনে দুর্ভোগের গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা ছিল ফাঁকা।
তবে হঠাৎ বিপুল সংখ্যক যানবাহন না থাকার কারণে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে নগরবাসীকে। বাসের জন্য যাত্রীরা বিভিন্ন স্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে থাকেন। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে বাসচালকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। যাত্রীরা অবৈধ লেগুনা ও ব্যাটারিচালিত এসব যানবাহন বন্ধে খুশি হলেও যাত্রীসেবায় এর বিকল্প পরিবহন প্রত্যাশা করছেন।
জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী অবৈধ লেগুনা, অটোরিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি, নসিমন ও করিমন। গাজীপুরের সড়ক-মহাসড়কে অবাধে এসব যানবাহন চলাচল করে আসছিল।
এতে মহাসড়কে প্রতিদিন ভয়াবহ যানজট এবং দুর্ঘটনা ঘটছে। শামসুন্নাহার গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পরপরই বিভিন্ন মহল থেকে একের পর এক এসব অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধের দাবি জানানো হয়। তার পরপরই ১ সেপ্টেম্বর থেকে এসব যানবাহন না চালাতে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।
এছাড়া সড়ক-মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটপাতে হকার না বসতেও নির্দেশনা দেন পুলিশ সুপার। ওই নির্দেশনার পর শনিবার বদলে যায় গাজীপুরে মহাসড়কের আশপাশ এবং শহরের ফুটপাতের দৃশ্যপট।
শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কোনো তিন চাকার গাড়ি ও লেগুনা চলছে না। বড় বড় লেগুনা ও সিএনজি স্ট্যান্ডগুলো ছিল ফাঁকা। সড়ক-মহাসড়কে এসব যানবাহন না থাকায় এবং হকার না থাকায় দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ সড়কের বাস-মিনিবাসসহ অন্যান্য যানবাহনগুলোকে যানজটমুক্ত পরিবেশে চলাচল করতে দেখা যায়।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত নিত্য যানজট থাকলেও শনিবার বিকেলে ছিল ফাঁকা। চান্দনা চৌরাস্তার চারদিকের পরিবেশ যানজটের পরিবর্তে ছিল সুশৃঙ্খল। তবে যানবাহনের অভাবে যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল। বাসে গাদাগাদি করে যাত্রীদের যেতে হয়েছে গন্তব্যে। এ সুযোগে বাসচালকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তারপরও অবৈধ যানবাহন বন্ধ এবং যানজট না হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং গাজীপুরকে যানজটমুক্ত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অবৈধ যানবাহন বন্ধে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নির্দেশনা অমান্য করে কেউ এসব যানবাহন মহাসড়কে চালানোর চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/আরআইপি