ফরিদপুরে চিনিকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন তিন মাস এবং শ্রমিকদের বেতন গত দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীরা।
চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাস থেকে এই চিনিকলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে। গত জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে শ্রমিকদের বেতন।
১৯৭৬-৭৭ অর্থবছর থেকে ১২৯ একর জমির ওপর স্থাপিত এই চিনিকলে আখ মাড়াই শুরু হয়। বর্তমানে এই চিনিকলে ৩১ জন কর্মকর্তা, ২১৮ জন কর্মচারী ও ১৩৪ জন নিয়মিত শ্রমিক রয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চিনিকলের কয়েকজন শ্রমিক ও কর্মচারী জানান, তিন মাস বেতন না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়ে অর্থকষ্টে তাদের সংসারে অশান্তি দেখা দিয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহার সময় অনেক শ্রমিক তাদের সন্তানদের নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে পারেননি। অনেক শ্রমিক-কর্মচারীদের ছেলে-মেয়েদের প্রাইভেট শিক্ষকদের বেতন না দিতে পারায় পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কেউ কেউ ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন।
শ্রমিক কর্মচারীরা জানান, যেখানে টাকা ছাড়া একদিন সংসার চালানো কঠিন সেখানে বেতন ছাড়া ৩ মাস সংসারের খরচসহ অন্যান্য খরচ চালানো দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর চিনিকলের শ্রমজীবী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মির্জা মনিরুজ্জামান বাচ্চু জানান, ফরিদপুর চিনিকলে বর্তমানে কোনো চিনি মজুত নাই। মাসিক বেতন সমস্যায় আমরা সবাই। তবে সদর দফতর থেকে টাকা পেলে বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেয়া হবে। শুধু ফরিদপুর চিনিকলই নয় দেশের ১৪টি চিনিকলেরই একই অবস্থা।
চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আকমল হোসেন বলেন, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি। এ ব্যাপারে আমার কিছু বলার নাই।
এএম/পিআর