“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য” ভূপেন হাজারিকার গানের এ অংশটুকু লিখে প্লেকার্ড হাতে টাকা তুলছিলেন জেড. এইচ. সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইতি আক্তার।
ইতি আক্তারের সঙ্গে আরো কয়েকজনের হাতে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ, উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, মাদার তেরেসা ও নেলসন ম্যান্ডেলার নানান বাণী সম্বলিত প্লেকার্ড।
ইতি আক্তারসহ আটজন শিক্ষার্থী নড়িয়ায় নদীভাঙনে গৃহহীন পরিবারদের সহায়তার জন্য মানুষের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করছেন। সেই টাকা তুলে ইতোমধ্যে ৪৮টি পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে ও এক প্রতিবন্ধীর পরিবারকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা করেছেন শিক্ষার্থীদের এ দলটি।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে গত ১১ আগস্ট শিক্ষার্থীদের ওই দলটি ‘দি হ্যান্ড অব ফেইথ’ নামে ফেসবুক একটি পেজ খোলে। ইতোমধ্যে ওই পেজে ৭ হাজার ২০০ সদস্য হয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের ওই দলটি প্রত্যেক দিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের কাছে সাহয্যের আবেদন করেন। যে সাহায্য করেন তার নাম ও সাহায্যের পরিমাণ ফেসবুকের ওই পেজে লিখে পোস্ট দেয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের এ কাজে সহযোগিতা করছেন নড়িয়া উপজেলার সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা গোলাম ফারুক, স্থানীয় ভূমখার ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য জসিম ঢালী ও আমেরিকা প্রবাসী লিটন বেপারী।
সাহায্য তোলা এসব শিক্ষার্থীরা হলেন, ঢাকার প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নুর মোহাম্মদ সিদ্দিকী, শরীয়তপুরের জেড.এইচ. সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইতি আক্তার, নড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এহসান বেপারী, আদনান শরীফ, দেওয়ান রিজভি, শাহীন সরদার, অনিক খান ও হাফিজুর রহমান।
ইতি আক্তার বলেন, ভাঙনে এ এলাকার মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যখন ভাঙনের দৃশ্য ও মানুষের অসহায় অবস্থা দেখি তখন কান্না পায়। আমরা শিক্ষার্থী, আমাদের কীবা করার আছে। তারপরও ওই সকল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নুর মোহাম্মদ সিদ্দিকী বলেন, আমারা এ এলাকার সন্তান। এলাকার মানুষের বিপদে তো আর দূরে থাকতে পারি না। আমাদের ডাকে অনেকে সাড়া দিচ্ছেন। বেশ কিছু পরিবারকে সহায়তা করতে পেরেছি। আগামী শনিবার আরো কয়েকটি পরিবারকে সহায়তা করা হবে।
নড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক বলেন, ভাঙনে নড়িয়া এলাকার ৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বিপদে আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে সাহায্য করছে। এটা নিঃসন্দেহে ভালো কাজ। আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে আছি, থাকব।
ছগির হোসেন/এফএ/আরআইপি