দেশজুড়ে

নবজাতকের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন, ২ কর্মচারী বরখাস্ত

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফাতেমা বেগম নামের এক প্রসূতির নবজাতককে তিন খণ্ড করে ফেলার ঘটনায় জেসমিন আক্তার পলি নামের এক আয়া ও শিরীন আক্তার নামের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

পাশাপাশি জেলা সিভিল সার্জনের আকস্মিক পরিদর্শনের সময় ওই হাসপাতালের দুই চিকিৎসক আপেল চন্দ্র সাহা ও ফারহানা ইয়াসমিন মঙ্গলবার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, মর্মান্তিক এ ঘটনা তদন্তে জেলা সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে গঠিত তদন্ত কমিটি বুধবার থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করবে বলে জানা গেছে।

শনিবার রাতে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারণে দুইজন নার্স ও একজন আয়া মিলে প্রসূতি ফাতেমার সন্তান ডেলিভারি করতে গিয়ে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।

এ ঘটনায় দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও জেলা সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে রোববার ও সোমবার দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এর মধ্যে মঙ্গলবার জেলা সিভিল সার্জন দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে যান। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের কনসালট্যান্ট আপেল চন্দ্র সাহা, মেডিকেল অফিসার ফারহানা ইয়াসমিন মঙ্গলবার কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাদেরকে অনুপস্থিতির কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং সাতদিনের মধ্যে এর জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রসূতির গর্ভের সন্তান টেনে ছিঁড়ে বের করা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে অবহেলার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের আয়া জেসমিন আক্তার পলি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী শিরীন আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এছাড়া মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি বুধবার দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তদন্ত শুরু করবেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহাম্মদ কবির জানান, তার তত্ত্বাবধানে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার সকাল থেকে চিকিৎসক রোমানা পারভীন, নীলা পারভীন, আহসানুল হক মিলু, তিন নার্স ও এক আয়াসহ সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডাক্তাররা কি কারণে অনুপস্থিত ছিলেন তা তাদের জবাব পাওয়ার পর জানা যাবে। তারা কুমিল্লা শহরে বসবাস করেন। তবে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাইভেট হাসপাতালে প্র্যাকটিস করেন না বলেও তিনি দাবি করেন।

মো.কামাল উদ্দিন/এএম/এমএস