পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ঘূর্ণায়মান তীব্র স্রোত আর নদীতে বিআইডব্লিউটিএর অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের কারণে ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রাজবাড়ী কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ও কালিকাপুর ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী মানুষ।
কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের হরিনবাড়ীয়া এলাকায় এবার ভাঙনে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব এলাকার ৮ গ্রামে প্রায় ২০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস ছিল। যারা নদী ভাঙনে বসতবাড়ি আর ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব প্রায়।
হরিণবাড়ীয় বাজার থেকে নদী পাড়ে যাওয়ার একমাত্র ইটের ব্রিকসোলিংয়ের রাস্তাটিরও বোহাল অবস্থা। জরুরি রোগী পরিবহন আর চরে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য নিয়ে হেঁটে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।
এদিকে সামিলচর, সাদার চর, রামনগরসহ কালিকাপুর ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত শতশত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
পদ্মা বিধৌত রাজবাড়ী জেলার প্রায় ৮৫ কিলোমিটার অংশজুড়ে রয়েছে প্রমত্তা পদ্মা। পদ্মার ভাঙনে জেলায় প্রতিবছরই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে হাজার হাজার বসতবাড়ী, ফসলি জমি, স্কুল, মসজিদ, কবরস্থান, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
ভাঙন রোধে কিছু কিছু স্থানে বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু হলেও অনেক স্থানে এখনো কোনো কাজ শুরুই হয়নি।
হরিণবাড়ীয়া অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী জানান, গতবছর নদীতে বালু কাটায় তাদের বাড়ি-ঘর, জমি-জমা সব নদীতে গেছে। এখন কিছু জমি থাকলেও তার উপর বালু পড়ে কোনো ফসল হচ্ছে না। এছাড়া পানি উঠে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় চলাফেরা করা যাচ্ছে না। খুব কষ্টের মধ্যে জীবন-যাপন করছেন।
তারা অভিযোগ করেন, এত কষ্ট, তবুও চেয়ারম্যান মেম্বার তাদের দেখতেও আসেনি। একবার কিছু চাল দিয়েছিল, তা দিয়ে কয়দিন চলে। একটু ভালোভাবে জীবন-যাপন ও নদী শাসনের জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির রাজবাড়ী জেলা শাখার কার্যকরী সদস্য আলামিন মোস্তফা জানান, রাজবাড়ীর পাংশা থেকে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত ৮৫ কিলোমিটার এলাকার ১৯টি স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। কিন্তু ভাঙন কবলিত স্থানগুলোর অনেক জায়গায় এখনো কোনো সংস্কার কাজ শুরু হয়নি।
রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি মো. জিল্লুল হাকিম জাানান, পাংশা ও কালুখালী উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ১০ কিলোমটিার এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। তিনি ভাঙন রোধে পানি সম্পদ মন্ত্রীর মাধ্যমে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডকে যথাযথ ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে কাজ করতে পারছেন না।
তিনি আরো বলেন, গত বছর রূপপুর পারমানবিক কেন্দ্রে নদীপথে কার্গো পরিহনের জন্য বিআইডব্লিউটিএ যে ড্রেজিং করেছে তার কারণে ভাঙন শুরু হয়েছে। ড্রেজিংয়ে বাঁধা দিলেও সে বাঁধা উপেক্ষা করেই ড্রেজিং করা হয়। সে সময় রাজবাড়ীর পাশ থেকে কেটে উল্টো পাশে বালু ফেলছে এ কারণেই এ সমস্যা।
তিনি জানান, জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। সরকার তাদের জন্য টিন ও ৩ হাজার করে টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি সেগুলো তাদের দেয়া হবে।
রুবেলুর রহমান/এফএ/পিআর