ক্যাম্পাস

তরিকুলের অনুরোধ রাখল না রাবি কর্তৃপক্ষ

কোটা আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের হাতুড়ি ও লাঠির আঘাতে পা ভেঙে যাওয়া তরিকুল পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে তার মাস্টার্স পরীক্ষা দেয়ার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা।

রাবি মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষা দেয়ার অনুমোদন চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হলেও পরীক্ষার সুযোগ মেলেনি তরিকুলের। পূর্বে অনেক শিক্ষার্থীকে মেডিকেল বা কারাগারে থেকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে তবে তরিকুলকে সুযোগ না দেয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মাঝে।

জানা যায়, বুধবার থেকে শুরু হয়েছে তরিকুলের মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা। এজন্য ১৭ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসকের সুপারিশ নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর একটি আবেদন করেন তরিকুল। মঙ্গলবার জানানো হয়েছে সে আবেদনের অনুমোদন দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে অসুস্থ পা নিয়েই বিভাগে পরীক্ষা দিতে হবে তরিকুলকে।

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য এ অনুমোদন দেননি বলে অভিযোগ করেন রাবি শাখা সাধারণ ছাত্র অধিকার রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ। এ প্রসঙ্গে তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, তরিকুলের পরীক্ষা দেয়ার ব্যাপারে বিভাগের স্যারদের পরামর্শ অনুযায়ী একটি দরখাস্ত লিখে বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর নিয়ে গেলাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে। ডাক্তারদের অনুরোধ জানালাম মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষার ব্যাপারে। ডাক্তাররা শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং তার প্রেসক্রপিশন, এক্সরে রিপোর্ট দেখে মেডিকেলে পরীক্ষা নেয়ার সুপারিশ করেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আশ্বস্ত করলেও এখন বলছে ভিসি স্যারের চেম্বারে ফাইল পাঠানো হয়েছে, বাকিটা স্যারের ইচ্ছা, আপনারা একটু যোগাযোগ করেন" তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর, ভিসির পিএস জানিয়েছে ভিসি স্যার যা করেছে তাই, তার ওপরে আমার কছিু বলার নাই।

তিনি আরও লিখেছেন, সারা বিশ্ব জানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসীদের স্বশস্ত্র হামলায় আহত তরিকুল এখনও সর্ম্পূণ সুস্থ নয়, পায়ে সামান্য ভর দেয়া শুরু করেছে মাত্র, অপারেশনের পর হাড় পুরোপুরি এবং ভালোভাবে জোড়া লাগতে প্রয়োজন আরও কিছু সময়। একাধারে ১৫/২০ মিনিটের বেশি বসে থাকতে পারে না সে, শুয়েই কাটায় সারাদিন।

তরিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, বন্ধুদের অনুরোধে পরীক্ষা দেয়ার চিন্তা করি। শারীরিকভাবে পঙ্গু হওয়ায় মেডিকেলে পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। আর আমার পক্ষে বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দেয়ার অবস্থা নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, আমি কিছু বলতে পারব না। পরীক্ষার বিষয়টি বিভাগ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ব্যাপার।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. বাবুল ইসলাম বলেন, সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে সাধারণত মেডিকেলে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। তার বিষয়টি সংক্রামক না হওয়ায় বিভাগে পরীক্ষা দেয়ার বিষয়ে জানানো হয়েছে।

এমএএস/এমএস