দেশজুড়ে

স্বামীর বিরোধীদের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন স্ত্রী

 

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে দলের মনোনয়ন পেতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন নাসিরনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার।

তিনি ছাড়াও কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের নেত্রী এমবি কানিজ মাঠে তৎপর রয়েছেন মনোনয়নের জন্য। এ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য ছায়েদুল হকের জীবদ্দশায় যে মনিরুজ্জামান ও কানিজ তার বিরোধীতা করেছেন তাদের সঙ্গেই জোট বেঁধেছেন ছায়েদুল হকের স্ত্রী দিলশাদ আরা মিনু।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক মঞ্চে ছিলেন মনিরুজ্জামান, কানিজ ও ছায়েদুল হকের স্ত্রী মিনু। স্বামীর বিরোধীদের সঙ্গে এক মঞ্চে বসা মিনুকে নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন ছায়েদুল হক। গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতাকে করা হয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্ব ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক নেতা এটিএম মনিরুজ্জামান সরকারকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেন। মনিরুজ্জামানকে প্রথমে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে দলের মনোনয়ন দিয়ে উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান বানান।

তবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর মনিরুজ্জামানের স্বপ্ন জাগে সংসদ সদস্য হওয়ার। তার পক্ষে দলের কিছু নেতাকর্মীকে একত্রিত করে ধরনা দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে। তখন থেকেই ছায়েদুল হকের বিরোধীতা শুরু করেন মনিরুজ্জামান। জেলা আওয়ামী লীগকে আমলে না নেয়া ছায়েদুল হকের বিরোধীতাকারীদের ছায়া দেন জেলার শীর্ষ কয়েকজন নেতা।

মনিরুজ্জামানের সঙ্গে ছায়েদুল হকের বিরোধীতায় নামেন কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের নেত্রী এমবি কানিজ। নিজ হাতে গড়া মনিরুজ্জামানের এমন কর্মকাণ্ডে ভীষণ মর্মাহত হন ছায়েদুল হক।

তবে ক্ষুব্ধ হয়ে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি তিনি। উল্টো মৃত্যুর আগে মনিরুজ্জামানের বাড়ির একটি সড়ক সংস্কার করে দিয়ে যান ছায়েদুল হক।

গত ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে হিন্দুপল্লীতে হামলার ঘটনায় ছায়েদুল হককে বিতর্কিত করার জন্য জোর তৎপরতা চালিয়েছিলেন মনিরুজ্জামান সরকার ও কানিজসহ বেশ কয়েকজন। ছায়েদুল হক মারা যাওয়ার পর উপ-নির্বাচনে তারা দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

তবে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রামকে। মনোনয়ন না পেয়ে মনিরুজ্জামান সরকারদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ফলে মনিরুজ্জামানের নিজ কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হয়।

নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাফি উদ্দিন জানান, মিনু ভাবি যাদের নিয়ে এক মঞ্চে বসেছেন তারা জীবদ্দশায় ছায়েদুল হককে অনেক কষ্ট দিয়েছেন। আমরা তাদের সঙ্গে গেলে ছায়েদুল হকের আত্মা কষ্ট পাবে।

তবে স্বামীর বিরোধীদের সঙ্গে এক মঞ্চে বসার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রয়াত মন্ত্রী ছায়েদুল হকের স্ত্রী দিলশাদ আরা মিনু।

আজিজুল সঞ্চয়/এএম/পিআর